ঢাকা
১০ জুলাই ২০২৬

জন্মশহর মাশহাদে খামেনির দাফন আজ

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬   ৩২ বার পঠিত
জন্মশহর মাশহাদে খামেনির দাফন আজ

 ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। এর আগে ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরে অনুষ্ঠিত হয় ব্যাপক শোকানুষ্ঠান। সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পর আজ বৃহস্পতিবার তাঁর জন্মশহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে দাফন সম্ভব না হওয়ায় অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়। পরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর দাফনের তারিখ নির্ধারণ করে ইরান সরকার।

গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তিন দিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির কফিন রাখা হয়। পরে মরদেহ নেওয়া হয় কোম শহরে। সেখান থেকে বিমানযোগে মরদেহ ইরাকে নেওয়া হয়। সর্বশেষ মাশহাদে শিয়া ইমাম রেজার সমাধির পাশে তাঁকে দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত মাসে দুই দেশ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করে বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা সময়ের অপচয়।

এর আগে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানো হলেও তেহরান তা অস্বীকার করে। পরে মার্কিন বাহিনী ইরানের কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি জানায়। জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়।

১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় সময় তিনি সেখানেই কাটান। স্থানীয় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য কোমে যান। ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।

শোকানুষ্ঠানের শুরু থেকেই লাখো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ইরাকের নাজাফেও একই চিত্র দেখা যায়। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মোহাম্মদ আল-বায়াতি বলেন, “যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর শেষকৃত্যে আমি না এসে থাকতে পারতাম না।”

অন্যদিকে ২৭ বছর বয়সী মুরতাদা আল-মালিকি বলেন, “খামেনি ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন।”

খামেনির মরদেহবাহী শোকযাত্রা উপলক্ষে গতকাল ইরাকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ভোর থেকেই তীব্র গরম উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ নাজাফের রাস্তায় জড়ো হন। অনেকেই মরদেহবাহী কফিন স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। শোকযাত্রার গন্তব্য ছিল হজরত আলী (রা.)–এর সমাধি। সেখানে ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ কারবালায় নেওয়া হয়।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া হায়দার জাফার বলেন, “ইরান ইরাকে যে নীতি বাস্তবায়ন করতে চায়, আমি তার সমর্থক নই। তবু আমি এখানে এসেছি, কারণ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করেছে।”

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa