ঢাকা
০৯ জুলাই ২০২৬

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি আসছে ১৫ জুলাইয়ে মধ্যে

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬   ৫৬ বার পঠিত
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি আসছে ১৫ জুলাইয়ে মধ্যে

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি আসছে ১৫ জুলাইয়ে মধ্যে যে কোন সময় ঘোষণা করা হতে হবে — সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাদরেজ জামান – ইয়াসিন আলী, আব্দুল কুদ্দুস ও ফখরুল ইসলাম রবিন, খোকন,তুহিন

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিএনপির বিভিন্ন স্তরে এই কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা ও লবিং-তদবির শুরু হয়েছে। দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন গুলো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন নেতৃত্ব আনতে যাচ্ছে বিএনপি। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জুন মাসের মধ্যেই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আগ্রহ এখন তুঙ্গে। দলের হাইকমান্ড সম্ভাব্য শীর্ষ নেতাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ত্যাগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করছে।

সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান ফখরুল ইসলাম রবিন ওই বৈঠকে কমিটি পুনর্গঠন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে রাজপথে সক্রিয় থেকে হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েও যাঁরা সংগঠনকে ধরে রেখেছেন তাদেরকে এবং পদ বঞ্চিত রাজপথের সাহসী সৈনিক ও নেতৃত্ব কে মূল্যায়নের বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

দলের অভ্যন্তরে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আলোচনা থাকায় এবারের কমিটিতে বড় ধরনের চমক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান কমিটির শীর্ষ দুই পদ থেকে নতুন কমিটিতে কাউকে না রাখার আলোচনা নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই বাস্তবতায় সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন,জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক অন্যতম ছাত্রনেতা সাদরেজ জামান। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক দুঃসময়ে পদ বঞ্চিত নেতৃবৃন্দরা সহ মাঠে থাকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ তাঁকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান।

এ প্রসঙ্গে সাদরেজ জামান বলেন, *”যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন জেল-জুলুম-নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েও রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন,এবং পদ বঞ্চিতদের মধ্যে থেকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে প্রত্যাশা করছি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত থাকব।

ভাপতি পদে আরও যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাঁরা হলেন — জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এবং

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান ও ফয়েজ উল্যাহ ফয়েজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিম তার সাথে পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন এবং উত্তরের সভাপতি ফরিদ।

পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকেও নতুন কমিটির নেতৃত্ব আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, *”যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো একে একে পুনর্গঠন করা হবে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। তৃণমূল নেতাকর্মী ও মাঠের রাজনীতির সঙ্গে যাদের সম্পর্ক রয়েছে, তারাই কমিটিতে স্থান পাবেন।”

আব্দুল কুদ্দুস বলেন ৯০ দশকে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে স্বৈরাচার মাফিয়া সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম, আমার বিশ্বাস ত্যাগী নির্যাতিত পদ বঞ্চিত নেতৃবৃন্দ কে যেন এই কমিটিতে মূল্যায়ন কার হয়,তাহলে সংগঠন হবে আরো শক্তিশালী এইটা আমার প্রত্যাশা।

নজরুল ইসলাম নোমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং তৃণমূলকে সংগঠিত করে দলকে শক্তিশালী করতে পারবেন, তাদেরকে বিএনপি চেয়ারম্যান মূল্যায়ন করবেন বলে আমার প্রত্যাশা।

মো. শাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিম বলেন, *”১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতৃবৃন্দকে মূল্যায়ন করলে স্বেচ্ছাসেবক দল হবে একটি শক্তিশালী সংগঠন। নতুন কমিটিতে পদ বঞ্চিত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে — এটা আমার দৃঢ় প্রত্যাশা।

যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ বলেন, *”মেধাবী, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়দের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে নতুন গতি ফিরে আসবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, *”দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। সাংগঠনিক অভিভাবক যে দায়িত্ব দেবেন, সেটাই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, এবারের কমিটিতে ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ইমেজের এবং মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা হলে সংগঠনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী হবে। সেই বিবেচনায় সভাপতি পদে সাদরেজ জামান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa