গাইবান্ধায় গর্ভবতী স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে ছয় মাসের অজাত সন্তানকে হত্যার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি মো. আবু সাঈদ ওরফে মিষ্টার (৩৮) কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-১৩ ও র্যাব-৫ এর যৌথ অভিযানে তাকে জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, “বাংলাদেশ আমার অহংকার”-এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন দীর্ঘদিন ধরে চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানি ও নারী-শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। স্পর্শকাতর সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ও গ্রেফতারকৃত আসামি সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ভিকটিম স্বামীর বিরুদ্ধে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পর থেকে ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মামলাটি মীমাংসার কথা বলে আসামি তার স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে গিয়ে ভিকটিমকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু ভিকটিম মামলা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে আসামি ক্ষিপ্ত হয়ে তার গর্ভবতী স্ত্রীর পেটে সজোরে লাথি মারে।
এতে ভিকটিম গুরুতর আহত হন এবং তার প্রচুর রক্তপাত শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিমের গর্ভে থাকা ছয় মাসের অজাত সন্তান মৃত অবস্থায় গর্ভপাত হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি গোবিন্দগঞ্জ থানায় পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আসামিকে গ্রেফতারের জন্য র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ গাইবান্ধা এবং র্যাব-৫, সিপিসি-৩ জয়পুরহাট এর একটি যৌথ আভিযানিক দল জয়পুরহাট জেলার কালাই থানাধীন পাচী ইউনিয়নের পুনট পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালে জয়পুরহাট থেকে মোকামতলাগামী সড়কের উপর থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. আবু সাঈদ ওরফে মিষ্টারকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনাতলা সাখইল এলাকায়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাব অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে র্যাব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
