
চোর-ডাকাত, মাদকসেবী—যারাই বাজারের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছে, তাদের ত্রাস ছিল সে। মুখে সামান্য জড়তা থাকলেও রাতে বাজারের নিরাপত্তায় তার ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বেশি। বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রিয় সেই যুবক, মো. বেলাল (৩০), নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
শনিবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের মীরেরহাট বাজারে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। আজ রবিবার (৯ নভেম্বর) ভোরে মীরেরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা বাজারের মধ্যে বেলালকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখে চমকে ওঠেন। তার শরীরের ওপর পড়ে ছিল মোটা গাছের টুকরো। বাজারের দারোয়ানের মতো পাহারা দিত”নিহত মো. বেলাল স্থানীয় মীরেরহাট এলাকার জয়নাল উকিল বাড়ির আবুল কালামের ছেলে।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সূত্রে জানা যায়, বেলাল কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। সারাদিন বাজারে ঘুরে বেড়াতেন, কিন্তু কারো ক্ষতি করতেন না। বরং রাতের বেলায় বাজারের নিরাপত্তায় তার ভূমিকা ছিল অবিশ্বাস্য।মীরেরহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জামশেদ আলম জানান, “বেলাল কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী হলেও বাজার প্রহরায় সে ছিল নির্ভীক ও নির্ভরযোগ্য। সারারাত বাজারের মধ্যে হেঁটে হেঁটে চিৎকার করতো। যার কারণে চোর-ডাকাত ও মাদক কারবারিদের অপকর্ম পরিচালনা করতে সমস্যা হতো। তাই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
স্থানীয় যুবক ও নিহত বেলালের নিকটাত্মীয় আলমগীর হোসেন-এর বক্তব্য অনুসারে, মীরেরহাট বাজারে প্রায়ই চোর-ডাকাত হানা দিত, কিন্তু বেলাল তাদের বাধা দিত। তিনি আশঙ্কা করছেন, শনিবার রাতে বাজার পাহারা দেওয়ার সময় ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগে দুষ্কৃতিকারীরা তাকে শুইয়ে গায়ে কম্বল মুড়িয়ে কাঠ দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
আরেক যুবক ইব্রাহিম বলেন, “রাতের বেলায় সে বাজারকে দারোয়ানের মতো পাহারা দিত। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।” হত্যার নেপথ্যে চোর ও মাদক কারবারিরা? বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ীদের ধারণা, বাজারে চুরি-ডাকাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং মাদক ব্যবসায়ীদের অপকর্মে বেলাল বাধা দেওয়ায় প্রতিশোধ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। বাজারে দীর্ঘদিনের অপকর্মের পথে বেলাল ছিলেন এক শক্তিশালী বাধা।
শনিবার রাতে মীরেরহাট বাজারে সিএনজি চালক সমিতির উদ্যোগে সিরাতুন্নবী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা শেষ হয় প্রায় রাত ১টার দিকে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এর গভীর রাতে বেলালকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে, তদন্তের আশ্বাসখবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেলালের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরে বিস্তারিত জানা যাবে।”বেলালের নির্মম হত্যাকাণ্ড মীরেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের জন্ম দিয়েছে। তারা অবিলম্বে নির্ভীক এই যুবকের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
