
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীনের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
অবস্থানকালে তারা ‘শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরে, প্রশাসন চুপ কেনো’, ‘শাবিপ্রবি নির্লজ্জ ভিসির অপসারণ চাই’, ‘শিক্ষার্থীরা এক হও, অধিকার আদায় করো’ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলনের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছে। ক্যাম্পাসের স্বৈরাচারী কাঠামো ভাঙতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন নারী-বিদ্বেষী, দালাল, স্বজনপ্রীতি, রক্তপিপাসু হামলাকারী ভিসিকে শিক্ষার্থীরা আর চায় না। এমন ভিসির ক্যাম্পাসে জায়গা হবে না। শুধু পদত্যাগ নয়, এমন নজির রাখতে হবে যেন সারাজীবন এটি শিক্ষণীয় হয়ে থাকে।
রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুর মজিদ অন্তর বলেন, আজ প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকালে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত অবহেলার শিকার হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে। শিক্ষকদের দ্বারা লাঞ্ছিত হচ্ছে, প্রশাসন কর্তৃক মারধরের শিকার হচ্ছে। মামলা-হামলার শিকার হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, যে শিক্ষার্থীদেরকে কেন্দ্র করে জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখা হয়, আজকে সেই শিক্ষার্থীদেরকে মেরুদণ্ডহীন করার জন্য একের পর নির্যাতন হচ্ছে। শিক্ষার্থী সমাজের বিরুদ্ধে লেগে জাতি কখনোই ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারেনি। শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে সকল সমস্যার সমাধান করুন। নির্লজ্জ বেহায়া ভিসিকে অপসারণ করুন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো – অবিলম্বে শাবিপ্রবির স্বৈরাচার ভিসিকে অপসারণ, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, একই সাথে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র প্রতিনিধি নিশ্চিত করার জন্য ছাত্র সংসদ চালুর দাবি জানান। এ বিষয়ে সুরাহা না করা হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারী দেন অবস্থানরতরা।
কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন আমানউল্লাহ আমান, সাকলাইন গৌরব, মেহেদী হাসান মুন্না প্রমুখ।
