
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এবার নকল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে। ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশন নামের এই প্রতিষ্ঠানটি এর আগে দরজা এবং লিফট লাগাতে জালিয়াতি করে। বদলানো হয়েছে দরজা। লিফটও লাগানোর পর খোলা হয়েছে। এবার সামনে এসেছে এসি জালিয়াতির বিষয়টি।
চুক্তি ছিল নেতৃস্থানীয় ব্র্যান্ড গ্রি’র নয়টি এয়ার কন্ডিশনার সরবরাহ এবং ইনস্টল করার। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুয়া এসি সরবরাহ ও স্থাপন করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। নিশ্চিত হওয়ার পর সম্প্রতি পাঁচটি নকল এসি অপসারণ করে করিডোরে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রামেক হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশন ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার টাকায় রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট নির্মাণের কাজ পায়। আইসিইউ ইউনিটে প্রতিষ্ঠানটি ২৩টি এসি লাগিয়েছে। তবে লাগানোর পরই সমস্যা দেখা দেওয়ায় নয়টি এসি খুলে দেখা গেছে, এগুলো আসল গ্রী ব্র্যান্ডের এসি নয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা এই এসিতে গ্রী-এর স্টিকার লাগানো হয়েছে। প্রকৃত এসি সরবরাহ না করা পর্যন্ত ঠিকাদারকে সেগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিতেও অস্বীকার করেছে তারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিটি দুই টনের ছয়টি নকল এসি খুলে বারান্দায় ফেলে রেখেছে এবং ঠিকাদারকে আসল এসি সরবরাহ না করার পর্যন্ত নকলগুলো সরাতে দেয়নি। ঠিকাদার এখনও সবগুলো এসি পরিবর্তন করে দিতে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে গত ৩ অক্টোবর হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এক নম্বর আলোচ্য সূচি ছিল ‘আইসিইউ লিফট টেন্ডার স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী হতে হবে।’ দ্বিতীয় আলোচ্য সূচি ছিল ‘আইসিইউতে যেসকল এসি রয়েছে, সেসকল এসিগুলো অরিজিনাল কি না, তা চেক করতে হবে।’ প্রথমে দুটি এসি ঠিকমতো কাজ করছে না দেখেই তারা বৈঠক করে এসিগুলো সঠিক কি না তা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞ ডেকে এনে এসিগুলো দেখান। তারপর তারা নিশ্চিত হন যে ঠিকাদার নকল এসি সরবরাহ করেছে। তারা জানতে পেরেছেন যে, স্থানীয়ভাবে তৈরি এসিতে ‘গ্রী’ এর স্টিকার লাগিয়ে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে।
এফএম শামীম আহমেদ বলেন, ঠিকাদার ইতোপূর্বে নতুন আইসিইউতে টেন্ডারে উল্লিখিত ‘এ’ ক্যাটাগরির বেড-কাম-প্যাসেঞ্জার লিফটের পরিবর্তে ‘সি’ ক্যাটাগরির প্যাসেঞ্জার লিফট বসিয়েছিল এবং তারা তাকে তা সরাতে বাধ্য করেছিলেন। কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও আমরা এখনো ‘এ’ ক্যাটাগরির বেড-কাম-প্যাসেঞ্জার লিফ্ট পাইনি। গণপূর্ত বিভাগকে ওই ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করতে বলা হবে।
রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারাত) কাউসার সরকার বলেন, কয়েকটা এসির সমস্যা ছিল। সেগুলো তো পাল্টে দেওয়া হয়েছে। এসিগুলো নকল তা স্বীকার করতে চাননি গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হায়াত মুহাম্মদ শাকিউল আজম। বলেন, কিছু একটা সমস্যা ছিল বলেই তো চেঞ্জ করে দেওয়া হচ্ছে।
তবে ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহমেদ বলেন, প্রথমে বুঝতে পারিনি যে এসিগুলো নকল। এসিগুলো নকল ছিল তা নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা স্থাপিত নয়টি এসির মধ্যে পাঁচটি সরিয়ে দিয়েছি এবং গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে বুধবার আমরা অফিসে দেখা করতে বলেছি।
