
বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার ছোট আন্ধারমানিক বটতলা এলাকায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সবাই আন্ধারমানিক সোনাকুড় এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন—মিজান শেখ (গ্যারেজ), প্রশান্ত মৃধা (টেইলার্স), বাদশা শেখ (মুদি), সিরাজুল শেখ (ফিড মিল), কাইউম ব্যাপারী (মুদি), আলামীন শেখ (মুদি), আলামীন শেখ (ইলেকট্রনিক্স) ও আশিস মৃধা (মুদি দোকান)।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ১ থেকে দেড় ঘণ্টা সময় নেয়। তাদের দাবি, বিলম্বের কারণেই ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। এ নিয়ে রাতেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এছাড়া কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা ও কম্বল বিতরণ করেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
