ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র ও যুব আন্দোলনে আলোচনায় উঠে এসেছেন নেহা বোরা। বামপন্থী দল সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার আগে দিল্লিতে আন্দোলনের সময় পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন নেহা। এর আগের দুই দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

নেহার আন্দোলন-সংশ্লিষ্টতা অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। পরে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধেও আন্দোলনে যোগ দেন। রাঁচিতে ওই কর্মসূচির সময় তার মুখে কালি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।

এরপর বিহারে আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতেও কর্মসূচিতে অংশ নেন নেহা। বিভিন্ন আন্দোলনে পুলিশের বাধা ও লাঠিচার্জের মুখোমুখি হলেও তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আইসার সভাপতি হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়ার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার পরিচিতি বেড়েছে। তার বক্তৃতা ও আন্দোলনের বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে।

বর্তমানে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনেও সক্রিয় নেহা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধীরা আন্দোলন করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ভিন্ন।

উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা নেহা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও জেএনইউতে পড়াশোনার সময় থেকেই বামপন্থী ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

নেহার ব্যক্তিগত জীবনের আরেকটি দিকও আলোচনায় এসেছে। তার পরিবারের কয়েকজন বিজেপির সমর্থক বলে তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার মতপার্থক্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নেহার মতে, আন্দোলন শুধু নির্দিষ্ট কোনো দাবি আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তরুণদের একে অপরের বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে বিভিন্ন অধিকার ও গণতান্ত্রিক ইস্যুতে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে অন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তুলনা শুরু হলেও নেহা সেই তুলনাকে গুরুত্ব দিতে চান না। তার বক্তব্য, ব্যক্তিকে আলাদা করে দেখার চেয়ে আন্দোলনে সংহতি ও সম্মিলিত ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুর আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে নেহা বোরা এখন ভারতের ছাত্র ও যুব আন্দোলনের আলোচিত তরুণ মুখগুলোর একজন হয়ে উঠেছেন।