চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৫ বছর পর উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রচারের প্রথম দিনে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ প্রতিটি প্যানেলের প্রার্থীরা ভোটার টানতে নানা প্রতিশ্রুতি দেন।
আজ শুক্রবার থেকে ক্যাম্পাসে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হচ্ছে। এ কারণে আগের দিন প্রার্থীরা দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেন। ক্যাম্পাসে ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ভোটপ্রার্থনা করেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রচারে প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাত সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। সেলে সাত অধ্যাপক দায়িত্ব পালন করবেন।
সরেজমিন স্টেশন, বিভিন্ন ঝুপড়ি ও অনুষদে প্রার্থীদের সরব দেখা যায়। সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসা ও প্রশাসন অনুষদ এবং অনুষদগুলোর ঝুপড়িতে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। নির্বাচিত হলে ক্যাম্পাসের জন্য কী কী করবেন, তা তুলে ধরেন তারা।
নির্বাচনে ১৩টি প্যানেল অংশ নিলেও গতকাল ছয় প্যানেলের প্রার্থীরা প্রচার চালান। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’, স্বতন্ত্র ‘অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য’, ‘সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্য’, ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ এবং বামপন্থি ও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ‘বৈচিত্রের ঐক্য’ প্যানেল থেকে প্রচার চালানো হয়।
ব্যবসা ও প্রশাসন বিভাগ থেকে প্রচার শুরু করে ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থীর জোট প্যানেল। এ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনির নেতৃত্বে প্রার্থীরা ব্যবসা ও প্রশাসন অনুষদ, কাটা পাহাড় এবং স্টেশন এলাকায় জনসংযোগ করেন।
ইব্রাহিম হোসেন বলেন, নির্বাচন নিয়ে একটু শঙ্কা রয়েছে। আশা করছি, নির্বাচন কমিশন তা কাটিয়ে উঠে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে সক্ষম হবে।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ঝুপড়ি থেকে প্রচার শুরু করেন। প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শাফায়াত হোসেন বলেন, আপাতত আমরা অনুষদ, ঝুপড়ি, স্টেশন ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। শিক্ষার্থীরা ভালো সাড়া দিচ্ছেন।
অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের জিএস প্রার্থী ইয়াসিন উদ্দিন জানান, বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে তারা প্রচার শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দারুণ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। অহিংস নাম নিয়ে এসেছেন। শিক্ষার্থীরাও রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির বাইরে চিন্তা করছেন।
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের জিএস প্রার্থী রশিদ দিনার জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা ইশতেহার ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছেন। ক্যাম্পাস দুর্গাপূজার ছুটিতে বন্ধ থাকায় প্রচারে ছেদ পড়বে। তবে এ সময় অনলাইনভিত্তিক কীভাবে ভোটারের কাছে নিজেদের পরিকল্পনা পৌঁছানো যায়, তা নিয়ে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
প্রার্থীদের মতোই নির্বাচন নিয়ে কৌতূহলী ভোটাররা। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হচ্ছে ভেবে আনন্দিত তারা। গতকাল প্রচারে প্রার্থীদের কাছে পেয়ে অনেকেই নিজের অভিযোগ-অনুযোগ তুলে ধরেন। ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহীদ ওয়াসি বলেন, ক্যাম্পাসে প্রার্থীরা দল বেঁধে প্রচার চালাচ্ছেন, দেখতেও ভালো লাগছে। আশা করছি, ভোটগ্রহণ পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ থাকবে।
অপরাধ বিজ্ঞান ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জান্নাত বলেন, ৩৫ বছর পর চাকসু নির্বাচন হচ্ছে। আমরা ক্যাম্পাসে খুব বেশি দিন আসিনি। এরই মধ্যে সমাবর্তন পেয়ে ভালো লেগেছে। এখন চাকসু নির্বাচন ঘিরে উৎসব বিরাজ করছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে গণরুমের ব্যাপারে আগে থেকে শুনেছি। আশা করছি, নতুন নেতৃত্ব গণরুম সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করবে। তারা হলের আবাসন সংকটসহ শাটলে শহরে যাতায়াতের যে সমস্যা তা দূর করতে কাজ করবে।
গতকাল নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থী ৯০৮ জন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ৪১৫, হল ও একটি হোস্টেল সংসদে প্রার্থী ৪৯৩।
নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক এ কে এম আরিফুল হক জানান, নাম-আইডি ত্রুটি ও ডোপ টেস্টের রিপোর্ট না দেওয়ায় চারজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। ২০ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কারও ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এলে, প্রার্থিতা বাতিল হবে।এছাড়া গতকাল প্রার্থীদের খসড়া ব্যালট নম্বর প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রার্থীদের খসড়া ব্যালট নম্বর দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর হবে চাকসুর ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে খসড়া ভোটার ২৭ হাজার ৫২১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৬ হাজার ৮৪; ছাত্রী ১১ হাজার ৩২৯ জন।