
দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী নদী চ্যানেলে বিকল হয়ে পড়া মাল্টার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘এমভি সিএনসি ইউরেনাস’-কে রাতভর এক দুঃসাহসিক ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যৌথ প্রচেষ্টায় জাহাজটিকে নদীর মূল চ্যানেল থেকে মুক্ত করে ‘বি’ (ব্রাভো) অ্যাঙ্করেজে নিরাপদে নোঙর করানো হয়। এর ফলে সচল রয়েছে বন্দরের নৌ চলাচল ও পণ্য খালাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়াত হামিম জাহাজ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, “সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে চীনের শিকৌ বন্দর থেকে ১,২৮২ টিইইউএস পণ্য ও ২৪ জন নাবিক নিয়ে ১৭০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি চ্যানেল দিয়ে প্রবেশ করছিল। ৯.৫০ মিটার ড্রাফটের জাহাজটি নদী মোহনায় পৌঁছালে হঠাৎ স্টিয়ারিং বিকল হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং ২ নম্বর লাল বয়ার সঙ্গে ধাক্কা লেগে রিটেইনিং ওয়ালে আটকে (গ্রাউন্ডেড) যায়।”
ঝুঁকিপূর্ণ রাতে মহাসমন্বিত উদ্ধার অভিযান:
ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে জরুরি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটিকে মুক্ত করতে বন্দরের চার শক্তিশালী টাগবোট ‘কান্ডারী-২’, ‘কান্ডারী-৪’, ‘কান্ডারী-৬’ ও ‘কান্ডারী-১১’-এর সঙ্গে যুক্ত হয় নৌবাহিনীর টাগবোট ‘শিবসা’, টানেল টাগবোট এবং কোস্ট গার্ডের ‘প্রমত্ত’।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভাটা এবং পলিমাটির বলয়ে আটকে থাকা কন্টেইনার জাহাজ উদ্ধার করা ছিল অত্যন্ত প্রযুক্তিগত ও ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি জাহাজের ওজন ও ড্রাফট কমাতে লাইটারিং বা কন্টেইনার খালাসের বিকল্প প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল। তবে মধ্যরাতের দিকে উদ্ধারকারীদের টানা ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো অতিরিক্ত জটিলতা ছাড়াই জাহাজটিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়।
জাতীয় বাণিজ্যে স্বস্তি:
দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশই পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। ব্যস্ততম এই চ্যানেলে কোনো জাহাজ দীর্ঘসময় আটকে থাকলে স্থবির হয়ে পড়তে পারত পুরো দেশের অর্থনীতি। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং উচ্চ পেশাদারিত্বের কারণে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
সফল উদ্ধার অভিযান শেষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পাইলট, টাগ ক্রু, নৌ বিভাগ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের দলগুলোর প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
