
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে (বিএসপিআই) শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আঞ্চলিক ফোরাম গঠন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই ঘটনায় অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিএসপিআই-এর ছাত্রাবাস এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংবাদ পেয়ে কাপ্তাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেলের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সংঘর্ষে আহত ছাত্ররা হলেন— হোসেন নূর আবিদ, মোস্তফা ওবায়দুল, তাকপির হাবিব, আরাফাত আবিব, ইমরান, আবদুল্লাহ আল তৌসিফ আবিদ, আল আমিন, আদিত্য রায়, মো. হাসান খন্দকার, মেহেরাব হোছাইন হিরা, মোস্তাকিন, তারেক হোছাইন ও জাহিদ।
তারা সবাই ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী।
বিএসপিআই-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আঞ্চলিক ফোরাম ও মোবাইলে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
রাত ১টার দিকে আহত ১৩ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তাদের মধ্যে ৯ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে আসলেও ৪ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার অধ্যক্ষ স্বয়ং হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
ইনস্টিটিউটের ছাত্রাবাসের হোস্টেল সুপার আবদুল মান্নান বলেন, “মূলত দুটি আঞ্চলিক ফোরামের দ্বন্দ্বে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিএসপিআই-এর অটোমোবাইল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইঞ্জিনিয়ার রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ইনস্টিটিউটে পর্ব সমাপনী পরীক্ষা চলছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
