
সাগরে প্রচণ্ড বাতাস ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে জাহাজ ভিড়তে না পারায় চট্টগ্রামে আবারও দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট।
গত মঙ্গলবার রাত থেকে নগরীর বিশাল এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রমের পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হুট করে গ্যাস চলে যাওয়ায় দৈনিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
নগরীর আসকার দিঘীর পাড় এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা পাল আক্ষেপ করে বলেন, “বুধবার সকাল থেকে বাসায় গ্যাস ছিল না।
সারাদিন রান্না করা সম্ভব হয়নি।
বিকেলে কয়েক মিনিটের জন্য গ্যাস এলেও পরক্ষণেই আবার বন্ধ হয়ে যায়।”
একই চিত্র দেখা গেছে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও।
অক্সিজেন এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ অটোরিকশাধারী আব্দুল গফুর জানান, সকাল ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও বিকেল পর্যন্ত গ্যাস পাননি।
প্রেসার বা চাপ কম থাকায় একেকটি গাড়িতে গ্যাস ভরতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি সময় লাগছে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে দৈনিক গড়ে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন।
কিন্তু বুধবার সেই সরবরাহ কমে নেমে এসেছে মাত্র ১৮০ থেকে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে।
অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি প্রায় ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক।
তবে কেজিডিসিএল কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এবার কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে সংকট তৈরি হয়নি।
মহেশখালী উপকূলে সাগরের প্রচণ্ড উত্তাল অবস্থা ও বাতাসের তীব্রতার কারণে এলএনজিবাহী নতুন জাহাজ খালাস করা যাচ্ছে না।
ঘাটতি ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস) মো. শোয়েব জানান, “এলএনজিবাহী জাহাজ নিরাপদে টার্মিনালে ভিড়ানোর জন্য বাতাসের গতিবেগ ২০ নটের নিচে থাকা প্রয়োজন।
কিন্তু বর্তমানে মহেশখালী এলাকায় বাতাসের গতিবেগ প্রায় ৩৮ নটে পৌঁছায় জাহাজ ভেড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও জানান, মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে।
তবে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলেই জাহাজ নিরাপদে ভিড়িয়ে সরবরাহ ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা সম্ভব হবে, যা চট্টগ্রামের সংকট দ্রুত নিরসন করবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২১ জুলাই থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ একই ধরনের গ্যাস সংকটে ভুগেছিল চট্টগ্রাম।
সে সময় একটি টার্মিনালে বয়লার সংক্রান্ত জটিলতায় সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আবার নতুন করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নগর জীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
