
জাপানের পূর্বাঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টোকিওর পার্শ্ববর্তী চিবা প্রিফেকচার।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে চিবার বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।
বন্ধ হয়ে যায় বেশ কয়েকটি সড়ক ও রেলপথ।
বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় একাধিক এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয় এবং কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সঙ্গে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘাতে বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
এর ফলে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হয়।
চিবার কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
বৃষ্টির তীব্রতায় চিবার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ডুবে যায় এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়।
কোথাও কোথাও গাড়ি পানিতে আটকা পড়ে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ি ও সড়ক থেকে কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা অন্তত আটজনে দাঁড়িয়েছে।
নারিতা বিমানবন্দরে ভোগান্তি
অতিবৃষ্টির কারণে টোকিওর কাছে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
প্রায় ৭ হাজার মানুষ সেখানে রাত কাটাতে বাধ্য হন। সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রী বিমানবন্দর থেকে বের হতে পারেননি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করে।
শুক্রবার কিছু পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও বিভিন্ন রুটে এখনো বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিপর্যস্ত
বন্যার কারণে চিবা ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
একপর্যায়ে কয়েক দশক হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রেললাইন ও মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে যাওয়ায় ট্রেন ও যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
চিবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবার কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছেন।
বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও নতুন করে ভারী বৃষ্টি এবং ভূমিধসের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তাদের আশঙ্কা, আরও বৃষ্টি হলে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পানের আবহাওয়া সংস্থাও জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
তাই সতর্কতা কিছুটা কমানো হলেও বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
