রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লোহানী ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া ফকিরপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।এতে ৩জন আহত হয়েছেন ।আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভতি করা হয়।এ ঘটনায় থানায় মামলার দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,লোহানী ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া ফকিরপাড়া গ্রামের এ কে এম মহি উদ্দিনের ছেলে এ কে এম রাশেদুল ইসলাম নান্নু(২৯।গত বুধবার (১২ নভেম্বর)গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।পরে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শেষে মামলা হিসেবে গ্রহন করেন।

বৃহস্পতিবার(১৩নভেম্বর)সকালে ভুক্তভোগীরা তাদের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগের বিষয় সাংবাদিকদের জানান।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নোহালি ইউনিয়ন পূর্ব কচুয়া ফকিরপাড়া গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে মোঃ মানিক মিয়া (৩৮)মো: লিয়াকত আলীর ছেলে মো:বকুল মিয়া(৪০),মোহাম্মদ মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে মো:মারফুল মিয়া এ ঘটনার সাথে জড়িত।

ঘটনাটি ঘটে ১১ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে। অভিযোগকারীর তথ্য অনুযায়ী,ঐ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ, ধাক্কাধাক্কি ও ভাঙচুর চালায়। এতে তার পরিবারের সদস্যরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি তার ঘরে থাকা ২ লক্ষ টাকার নগদ অর্থ, সোনার গয়না এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে,এলাকাবাসী জানান, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অনেক দিন ধরেই চলছে। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটে।

অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী এ কে এম রাশেদুল ইসলাম নান্নু উল্লেখ করে প্রতিপক্ষের হামলার সময় তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা ঘরে অবস্থান করছিলেন। তিনি আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় তার পরিবার আবারও হামলার শিকার হতে পারে। এজন্য তিনি নিজ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ি-ঘর ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তারা পালিয়ে যায়। অভিযোগকারী দাবি করেন, এ ঘটনার মাধ্যমে প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের প্রতিশোধ নিয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী এ কে এম রাশেদুল ইসলাম নান্নু সাংবাদিকদের বলেন,“আমার পিতা ও দাদা থেকে পাওয়া জমি আমাদের দখলে ছিল।কিন্তু প্রতিপক্ষ অবৈধভাবে ওই জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি বাধা দিলে তারা বারবার হুমকি দিচ্ছে এবং এবার সরাসরি হামলা চালিয়েছে।এতে আমাদের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি হয়েছে। আমার পরিবারের উপর হামলা করেন।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্তদের বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন স্থানীয়রা বলেন“দুই পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।তবে এ ধরনের হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)আল-ইমরান বলেন,লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।