
দুইজন খেলছেন। রেফারি খেলা বন্ধ করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। তাতে কোন পাত্তা নেই। কে শুনে কার কথা। কিন্তু কি খেলা? সে খেলার নাম জানা নেই কারো। খানিক পর ৫-৬ জন মিলে আবারও খেলা শুরু করলেন। সে খেলার অবশ্য একটা নাম আছে। যার নাম ‘ধর্ষণ’। ফলাফল? ধর্ষিতার স্বজনদের আহাজারি, রক্তমাখা তরুণীর আর্তনাদ, নরপশুদের নগ্ন উল্লা। আর বাকি সদাই দর্শক। এমন সময় কথক বলে উঠলেন ‘একটু আগে যে খেলা দেখলেন এ খেলার সাথে এর আগের খেলারও হুবহু মিল রয়েছে। ওরাও একই খেলা খেলেছিলেন।’ নগরনাট সিলেট’র ধর্ষণ বিরোধী এমন প্রতিবাদী নাটক।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫ টায় মুরারিচাঁদ কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণী ধর্ষণের প্রতিবাদে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের আয়োজনে ‘প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে’ নাটকের গল্পে এমন কিছু দৃশ্য উপস্থাপন করে নগরনাট সিলেট।
এ দৃশ্যের শেষ এখানেই না, আছে নানান বাক্যে ধর্ষিতা কিংবা তাঁর স্বজনদের প্রতি তিরস্কারের বাস্তব চিত্র। নাটকীয়তায় উঠে আসল বাস্তবতা। সর্বোচ্চ ১০ মিনিটে নগরনাট দেখালো আজব দেশ। রঙিন পৃথিবীতে মুখোশের আড়ালে থাকা অমানুষগুলো কি করে মানুষের বেশে থাকে তা বুঝাতে শতভাগ সফল নগরনাট সিলেট।
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল দেশ। নানা ভাবেই চলছে আন্দোলন। এমন সব আন্দোলনের মাঝে আগুনলাগা সব দৃশ্য, সংলাপে নগরনাট পরিবেশন করল নাটকটি। অবশ্য বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রতিবাদে নগরনাটের এমন কার্যক্রম আজ নতুন নয়। নাটকে-গানে তাদের প্রতিবাদের এমন ধরণ বেশ পুরনো।
এদিকে বিকাল সাড়ে ৪ টায় শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক সমাবেশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে আবৃত্তি, গণসংগীত, দলীয় সংগীত, একক সংগীত পরিবেশন করা হয়। প্রতিবাদী এ সমাবেশ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
