প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার মুমিনুল হক। তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। তবে মাইলফলক ছোঁয়ার পর ইনিংস বড় করতে পারেননি এই ব্যাটার। ২৮ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করেন মুমিনুল। সকালে ক্যারিবীয় পেসারদের সুইং ও গতির মুখে সতর্কভাবে ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। শামার জোসেফের দ্রুতগতির বাউন্সার এবং জাইডেন সিলসের সুইং সামলে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান এই বাঁহাতি ব্যাটার।

শুরুর দিকে উইকেট আগলে রাখায় মনোযোগ দিলেও রস্টন চেজ বোলিংয়ে আসার পর রান তোলার গতি বাড়ান মুমিনুল। অফ স্টাম্পের বাইরের খাটো বলে কাট শটে চার মারেন তিনি। পরে স্পিনের বিপক্ষে সুইপ ও ফাঁকা জায়গায় বল ঠেলে রান সংগ্রহ করেন।

ইনিংসের ১৩তম ওভারে রস্টন চেজের বলে সুইপ করে দুই রান নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের সীমা অতিক্রম করেন মুমিনুল। ম্যাচের আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে তাঁর প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১ রান।

বাংলাদেশের হয়ে এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের কীর্তি গড়েছিলেন নাঈম ইসলাম ও তুষার ইমরান। তাঁদের পর এই তালিকায় যুক্ত হলেন মুমিনুল।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তুষার ইমরানের সংগ্রহ ১৮২ ম্যাচে ৩২টি সেঞ্চুরি ও ৬৩টি ফিফটিতে ১১ হাজার ৯৭২ রান। নাঈম ইসলাম ১৮৪ ম্যাচে ৩৪টি সেঞ্চুরির সাহায্যে করেছেন ১১ হাজার ২৫০ রান। অন্যদিকে, ১৬৯ ম্যাচে ২৯টি সেঞ্চুরি নিয়ে মুমিনুলের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১৭ রান।

মাইলফলক অর্জনের পরও ব্যাটিংয়ে ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছিলেন মুমিনুল। পেসার জাস্টিন গ্রিভসের টানা দুই মেডেন ওভারেও উইকেট ধরে রাখেন তিনি। বল ছেড়ে দেওয়া ও দৃঢ় ডিফেন্সের মাধ্যমে চাপ সামলান এই ব্যাটার।

তবে শেষ পর্যন্ত উইকেট ধরে রাখতে পারেননি মুমিনুল। জোমেল ওয়ারিকানের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে মিড অফের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। বলটি সরাসরি মিড অফে দাঁড়ানো শামার জোসেফের হাতে জমা হলে ২৮ রানে থামে তাঁর ইনিংস।

ব্যক্তিগত ইনিংস বড় করতে না পারলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের দীর্ঘ ধারাবাহিকতার আরেকটি স্বাক্ষর রাখলেন মুমিনুল।