রাজধানীর মগবাজারে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় মুখ খুলেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। তিনি সুস্থ আছেন এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে তাঁকেই লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এই সংগীতশিল্পী।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৫টার দিকে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে পার্ক করা আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না তিনি।

বিকেলে নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আসিফ আকবর জানান, তিনি সুস্থ আছেন। সকালে পুলিশের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে বাসায় ফিরে ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পরে বিকেলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর বাসায় গিয়ে কথা বলেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার সময় নিজের কার্যালয়ে ছিলেন উল্লেখ করে আসিফ আকবর বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরায় আশপাশের দৃশ্য দেখছিলেন তিনি। তাঁর ধারণা, ভোর ৪টা ৫২ থেকে ৫৪ মিনিটের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটে। তখন গাড়িতে কেউ ছিলেন না।

কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন আসিফ আকবর। তবে তাঁর ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাঁর কার্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় সম্পর্কে জানত। সাধারণত রাত ৮টা বা সাড়ে ৮টার দিকে তিনি কার্যালয়ে যান এবং ফজরের নামাজের আগে কিংবা পরে বাসায় ফেরেন।

আসিফ আকবর বলেন, দুর্বৃত্তরা সম্ভবত তাঁর ওই সময়ের যাতায়াতকে লক্ষ্য করেছিল। তাঁর ভাষায়, ‘তারা ওই সময়টাই টার্গেট করেছে, কিন্তু তাদের টার্গেটটা মিস হয়ে গেছে। আমি আর কিছুক্ষণ পরেই নিচে নামতাম।’

ঘটনার সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় নিজের মতো দেখতে একজনকে হেঁটে যেতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর ধারণা, ওই ব্যক্তিকে তাঁকে ভেবে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে থাকতে পারে। ছেলের সঙ্গে কথা বলছিলেন বলে সেদিন কার্যালয়ে কিছুটা বেশি সময় ছিলেন বলেও জানান এই সংগীতশিল্পী।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল সেন্টারের সামনে পার্ক করা গাড়িতে গুলির ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে গুলি ছোড়েন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ির পেছনের জানালার ভেতর থেকে গুলির একটি কার্তুজ উদ্ধার করে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।