রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ বিভিন্ন আলামতের নমুনার সঙ্গে মিলেছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে রংপুর কারাগার থেকে ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামতের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হয়। পরীক্ষায় এসব আলামতের সঙ্গে তাদের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি মোট ৩৫টি আলামত সংগ্রহ করেছিল। এর মধ্যে ছিল ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নান রুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ এবং নিহত শিশু প্রিয়মের খাতায় পাওয়া একটি লেখা। এসব আলামত তিন দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিএনএ পরীক্ষায় খেজুর, শসা, সিগারেটসহ কয়েকটি আলামতের সঙ্গে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের নমুনার মিল পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ।

এর আগে গ্রেপ্তারের পর দুই আসামির ডোপ টেস্ট করা হয়েছিল। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই এলাকার প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।