‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। প্রতিবছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার দিবসটি পালিত হয়। এ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বসতি মেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য নগর এলাকায় সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ সীমিত। এর সঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ও কৃষিজমি ভরাট, যানজট এবং নাগরিক সেবার অসম বণ্টন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

জাতিসংঘের ২০২৫ সালের নগরায়ণ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকায় বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করছে। ২০০০ সালে বিশ্বের নবম জনবহুল নগরী ঢাকা ২৫ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। বর্তমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরীতে পরিণত হতে পারে।

নগরপরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার ওপর চাপ কমাতে শুধু নতুন আবাসিক এলাকা তৈরি যথেষ্ট নয়। কর্মসংস্থান, শিল্প ও নাগরিক সুবিধা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও শহরে ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে সরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসন শুধু একটি ঘরের বিষয় নয়। নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানও এর অংশ। তাই কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষা করে পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বিকেন্দ্রীভূত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হতে পারে সবার জন্য টেকসই আবাসনের পথ।