
সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজার এলাকায় যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে লক্ষ্মশোম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ, একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হামলা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
মিজানুর রহমানের বাবা সিদ্দিক আলী (৬৫) বলেন, রাত ১১টার দিকে ছেলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। এর কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান, কয়েকজন বাড়ির ফটক খোলার চেষ্টা করছেন। তিনি ব্যালকনিতে গেলে কয়েকজনকে দৌড়ে আসতে দেখেন। এরপর বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং গেটের তালা ভেঙে হামলাকারীরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন।

সিদ্দিক আলীর ভাষ্য, তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁকে ও তাঁর নাতি সিব্বিরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। হামলাকারীদের হাতে হাতুড়ি, রামদা, লোহার রড ও এসএস পাইপ ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে এসব অস্ত্র দিয়ে আঘাতও করা হয়েছে।
সিদ্দিক আলী বলেন, ‘আমি হাতজোড় করে বলেছি, আমার অনেক কষ্টের সংসার। তোমরা ভাঙচুর কোরো না। কিন্তু তারা কোনো কথা শোনেনি।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যান, আলমারি ও খাটসহ বিভিন্ন আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, রাত ১২টার দিকে চারটি মোটরসাইকেলে করে আটজন ব্যক্তি ওই বাড়ির আশপাশে অবস্থান নেন। পরে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরিবারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁদের ধাওয়া করেন। এতে কেউ আর সামনে যাওয়ার সাহস পাননি।

সিদ্দিক আলী বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে দুজনের মাথায় হেলমেট ছিল। অন্যদের তিনি চিনতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য, ‘ঘরে ঢুকেই তারা ভাঙচুর শুরু করে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। আমরা ভয়ে ঘরের এক কোণে লুকিয়ে ছিলাম।’
মিজানুর রহমান প্রায় তিন বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে জানান তাঁর বাবা। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে দল করে, এটাই তার অপরাধ। ৫ আগস্টের ভয়ে সে বাড়িতে আসে না। তারপরও আমাদের ওপর এমন অত্যাচার হলো।’
ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন জানিয়ে সিদ্দিক আলী বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
