
পারিবারিক অশান্তি ও স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে দুই সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাবা।
এরপর সন্তানদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজের নাটক সাজান তিনি।
দুই দিন আত্মগোপনে থাকার পর শিশু দুটিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে পৃথক দুটি হাওরে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নিহত দুই শিশু হলো দিরাই উপজেলার পেরুয়া মধুপুর গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে মুহাদ্দিস (৭) ও মেয়ে তুলনা আক্তার (৪)।
এ ঘটনায় কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন কামরুল।
পরে পরিবারের সদস্যদের জানান, সন্তানদের নিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন।
১০ আগস্ট বাড়িতে ফিরলেও দুই সন্তানের কোনো খোঁজ জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।
এর মধ্যে বুধবার (১২ আগস্ট) ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ ও সদর উপজেলার দুটি হাওর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
একটি মরদেহ শান্তিগঞ্জের ডাবর এলাকার হাওর থেকে এবং অপরটি সদর উপজেলার গোবিনপুর এলাকার দেখার হাওর থেকে উদ্ধার করা হয়।
পরপর দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নামে পুলিশ।
পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কামরুল নিজের সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে গত ৭ আগস্ট ছেলে মুহাদ্দিস ও মেয়ে তুলনাকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন কামরুল।
পথে শান্তিগঞ্জের ডাবর এলাকায় মেয়েকে হাওরে ফেলে দেন তিনি।
এরপর দুই দিন সিলেটে অবস্থান করেন।
পরে বাড়ি ফেরার পথে ছেলেকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন কামরুল।
এরপর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিনপুর এলাকায় তাকে হাওরে ফেলে দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি।
রাতে বাড়িতে ফিরে সন্তানদের নিখোঁজের ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করেন কামরুল।
পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
নিহত শিশুদের মা আফরোজা আক্তার বলেন, ‘আমি আমার সন্তানদের হত্যার বিচার চাই। আমার স্বামীর ফাঁসি চাই।’
পেরুয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও পঞ্চায়েত ব্যক্তিত্ব আব্দুল জলিল বলেন, ‘এমন নেক্কারজনক ঘটনা আমার ৬৫ বছরের জীবনে শুনিনি।
পিতা সন্তানদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জায়গা। পিতা কর্তৃক এমন ঘটনা সমাজের জন্য ভয় ও উদ্বেগের।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার জানান, নিহত শিশুদের মা আফরোজা আক্তার বাদী হয়ে শান্তিগঞ্জ থানায় স্বামী কামরুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে শিশু দুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, কামরুল নিজেই সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি পুলিশকে জানালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
