সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মী নিহত, পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ
বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৪ বার পঠিত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় রাজু আহম্মেদ (৩২) নামে এক বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা বালুরঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজু আহম্মেদ ওই এলাকার আয়নাল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পাশাপাশি একটি গরুর খামার পরিচালনা করতেন বলে জানিয়েছেন শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাজুর এক ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় শাহাদাত বাহিনীর প্রধানের সহযোগী নুরুল ও জাকিরের কথা-কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাজু ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
নিহতের মা সালেহা বেগমের অভিযোগ, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর রাত ১১টার দিকে নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। ফুফাতো ভাইকে না পেয়ে হামলাকারীরা রাজুর ওপর হামলা চালিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
পরিবারের দাবি, রাজুকে রক্ষা করতে গেলে নারী সদস্যসহ পরিবারের আরও কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে রাজুকে মুন্সিগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় বোন সোনিয়া বেগমের অভিযোগ, রাজু দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, রাজুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।