
কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার দুই জেলে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে মহেশখালী থানা-পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, প্রায় ৩৬ দিন আগে শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে মাছ ধরতে সাগরে যান বাবা-ছেলে এস এইচ চামিন্দা ও তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে ভেসে যেতে থাকে।
যাত্রার মাত্র সাত দিন পরই তাদের সঙ্গে থাকা সব খাবার শেষ হয়ে যায়। এরপর টানা ২৯ দিন তারা সমুদ্র থেকে ধরা কাঁচা মাছ এবং বড়শির টোপ হিসেবে রাখা খাবার খেয়েই বেঁচে ছিলেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ট্রলারে চারজন জেলে ছিলেন। ইঞ্জিন বিকলের তিন দিন পর অন্য একটি নৌকার সহায়তায় দুজন ফিরে গেলেও ট্রলারটি নিজেদের হওয়ায় বাবা-ছেলে সেটি ছেড়ে যাননি। পরে মিয়ানমারের কিছু লোক তাদের ট্রলারে উঠে ক্যামেরা, দূরবীনসহ কয়েকটি মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এরপর ট্রলারটি ভেসে ভেসে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জলসীমায় চলে আসে।
গত বুধবার গভীর সাগরে মাছ ধরে ফেরার পথে মহেশখালীর জেলে ও ট্রলার মালিক জিয়াউর রহমান ভাসমান ট্রলারটি দেখতে পান। কাছে গিয়ে তিনি দেখেন, ট্রলারের মধ্যে দুই ব্যক্তি অসহায় অবস্থায় পড়ে আছেন। তাদের একজনের শারীরিক অবস্থাও ছিল অত্যন্ত দুর্বল। মানবিক বিবেচনায় তিনি তাদের উদ্ধার করেন এবং বিকল ট্রলারটিকে রশি দিয়ে বেঁধে শুক্রবার রাতে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা ঘাটে নিয়ে আসেন।
ভাষাগত জটিলতার কারণে প্রথমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে দুবাইপ্রবাসী এক দোভাষীর সহায়তায় জানা যায়, উদ্ধার হওয়া দুজনই শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং তারা বাবা-ছেলে। তারা দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে চান এবং নিজেদের ট্রলারটিও সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান জানান, দুই বিদেশি নাগরিককে ঘিরে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের ট্রলারটিও জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে উদ্ধারকারী জিয়াউর রহমান বলেন, বাবা-ছেলে বারবার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন। তবে মহেশখালী থেকে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে ছোট ওই ট্রলারে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
