সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী সিলেটে যোগদানের পর থেকে মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ|
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নগর নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে একের পর এক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেন| মহানগরের প্রতিটি থানাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, অপরাধ প্রতিরোধে কৌশলগত পরিকল্পনা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে|
এসব উদ্যোগের ফলে নগরবাসীর মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন| বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, পুলিশ কমিশনারের পরিকল্পনা ও তদারকিতে থানাগুলোর কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে|
শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই নয়, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিও তার আন্তরিকতার পরিচয় মিলেছে বিভিন্ন সময়ে| নগরীর বিভিন্ন মসজিদে তাকে ইমামের ভূমিকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জনগনকে সচেতন করতে দেখা গেছে| বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে| অনেকেই মন্তব্য করেছেন স্বাধীনতার পর সিলেটবাসী এমন একজন পুলিশ কমিশনার পেয়েছেন, যিনি দায়িত্বশীল প্রশাসক হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মসজিদের ইমামের মতোও দায়িত্ব পালন করেন|
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট মহানগরে মাদক, অনলাইন জুয়া, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এসএমপি| অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব বা সুপারিশকে তিনি গুরুত্ব দেন না বলেও অনেকেই জানিয়েছেন| তাদের ভাষ্য, অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনের প্রয়োগে তিনি আপসহীন|
প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে জানা যায়, পুলিশ কমিশনার প্রায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন| সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক সময় তিনি টানা ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন| যেখানে অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তার নির্ধারিত অফিস সময় রয়েছে, সেখানে পুলিশ কমিশনারকে প্রয়োজন অনুযায়ী দিন-রাত যেকোনো সময় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়|
সিলেট মহানগরের নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন বলেও জানা গেছে| অনেকেই দাবি করেন, প্রয়োজনে ফোন করলে তিনি নিজেই ফোন রিসিভ করে সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন|
কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ আইনগত সহায়তা ও পুলিশি সেবা পাওয়ার আশায় উনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছেন| তাদের অনেকেই দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়াকে বলেন, পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা পেয়েছেন| এ কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন|
তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, কমিশনারের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য—কনস্টেবল, এএসআই, এসআই ও ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা—অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন| যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি|
সূত্রগুলোর ভাষ্য, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অপরাধের অভিযোগ উঠলে কমিশনার কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করেন না| অতীতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর অন্যদের মধ্যেও সতর্কতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন|
এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে| আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এসব পদক্ষেপের ফলে সিলেট মহানগরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অনেক বাসিন্দার অভিমত|
ব্যক্তিগত জীবনাচরণেও তিনি সাধারণ মানুষের মতো সাদামাটা বলে পরিচিত| একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও তার মধ্যে অহংকার নেই—এমন মন্তব্য করেছেন নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ| তাদের মতে, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, জনবান্ধব আচরণ, সততা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং অপরাধ দমনে আপসহীন অবস্থানের কারণেই তিনি বর্তমানে সিলেট মহানগরের মানুষের কাছে একজন জনপ্রিয় পুলিশ কমিশনার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন|