ঢাকা
০২ জুলাই ২০২৬

শুধু পুলিশ কমিশনার নন, মসজিদের ইমামও বটে

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬   ১১০ বার পঠিত
শুধু পুলিশ কমিশনার নন, মসজিদের ইমামও বটে

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী সিলেটে যোগদানের পর থেকে মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ|

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নগর নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে একের পর এক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেন| মহানগরের প্রতিটি থানাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, অপরাধ প্রতিরোধে কৌশলগত পরিকল্পনা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে|

এসব উদ্যোগের ফলে নগরবাসীর মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন| বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, পুলিশ কমিশনারের পরিকল্পনা ও তদারকিতে থানাগুলোর কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে|

শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই নয়, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিও তার আন্তরিকতার পরিচয় মিলেছে বিভিন্ন সময়ে| নগরীর বিভিন্ন মসজিদে তাকে ইমামের ভূমিকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জনগনকে সচেতন করতে দেখা গেছে| বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে| অনেকেই মন্তব্য করেছেন স্বাধীনতার পর সিলেটবাসী এমন একজন পুলিশ কমিশনার পেয়েছেন, যিনি দায়িত্বশীল প্রশাসক হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মসজিদের ইমামের মতোও দায়িত্ব পালন করেন|

স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট মহানগরে মাদক, অনলাইন জুয়া, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এসএমপি| অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব বা সুপারিশকে তিনি গুরুত্ব দেন না বলেও অনেকেই জানিয়েছেন| তাদের ভাষ্য, অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনের প্রয়োগে তিনি আপসহীন|

প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে জানা যায়, পুলিশ কমিশনার প্রায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন| সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক সময় তিনি টানা ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন| যেখানে অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তার নির্ধারিত অফিস সময় রয়েছে, সেখানে পুলিশ কমিশনারকে প্রয়োজন অনুযায়ী দিন-রাত যেকোনো সময় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়|

সিলেট মহানগরের নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন বলেও জানা গেছে| অনেকেই দাবি করেন, প্রয়োজনে ফোন করলে তিনি নিজেই ফোন রিসিভ করে সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন|

কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ আইনগত সহায়তা ও পুলিশি সেবা পাওয়ার আশায় উনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছেন| তাদের অনেকেই দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়াকে বলেন, পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা পেয়েছেন| এ কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন|

তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, কমিশনারের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য—কনস্টেবল, এএসআই, এসআই ও ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা—অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন| যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি|

সূত্রগুলোর ভাষ্য, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অপরাধের অভিযোগ উঠলে কমিশনার কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করেন না| অতীতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর অন্যদের মধ্যেও সতর্কতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন|

এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে| আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এসব পদক্ষেপের ফলে সিলেট মহানগরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অনেক বাসিন্দার অভিমত|

ব্যক্তিগত জীবনাচরণেও তিনি সাধারণ মানুষের মতো সাদামাটা বলে পরিচিত| একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও তার মধ্যে অহংকার নেই—এমন মন্তব্য করেছেন নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ| তাদের মতে, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, জনবান্ধব আচরণ, সততা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং অপরাধ দমনে আপসহীন অবস্থানের কারণেই তিনি বর্তমানে সিলেট মহানগরের মানুষের কাছে একজন জনপ্রিয় পুলিশ কমিশনার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন|

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa