পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের উপচে পড়া পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পাহাড়-লেকের শহর রাঙ্গামাটি এবং মেঘের উপত্যকা সাজেক ভ্যালি। ঈদের তৃতীয় দিনে জেলার বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটন স্পটগুলোয় তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা হাজারো পর্যটকের আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে পাহাড়ি এই জনপদে এখন উৎসবের আমেজ।
গতকাল বিকেলে রাঙ্গামাটির প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে কেউ ঝুলন্ত সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ইঞ্জিনচালিত বোটে চড়ে কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
শুধু ঝুলন্ত সেতুই নয়, বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় দেখা গেছে পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো, দৃষ্টিনন্দন আসামবস্তি ব্রিজ, আসামবস্তি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক এবং কাপ্তাই হ্রদ পরিবেষ্টিত বিভিন্ন বেসরকারি রিসোর্ট ও কটেজগুলোয়।
ফেনী থেকে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু দেখতে আসা পর্যটক খোরশেদ আলম, সোহেল রানা ও হাবিব উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “বন্ধুরা মিলে প্রথমবার রাঙ্গামাটি এসেছি। আগে যেসব জায়গা ফেসবুকে বা ছবিতে দেখতাম, এখন নিজের চোখে দেখতে পেরে দারুণ লাগছে। লেক আর পাহাড়ের এই মেলবন্ধন সত্যিই অসাধারণ।”
ঢাকা থেকে আসা আরেক পর্যটক খালেদ মাহমুদ জানান, আগে তিনি বর্ষাকালে এসেছিলেন। এবার হ্রদে পানি কিছুটা কম হলেও পাহাড় ও লেকের রূপের কোনো কমতি নেই। সারাদিন বোট নিয়ে হ্রদে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতি অতুলনীয়।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, প্রথম দুই দিনের তুলনায় ঈদের তৃতীয় দিনে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পর্যটন বোটঘাট কাউন্টারের লাইনম্যান মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ঘাটের ৪০টি ট্যুরিস্ট বোটের মধ্যে অধিকাংশ বোটই সারা দিন বুকড ছিল।
রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, “ঈদের দ্বিতীয় দিনে যেখানে ১ হাজার ৮০০ জন পর্যটক ঝুলন্ত সেতুতে এসেছিলেন, সেখানে তৃতীয় দিনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনে। ১ জুন পর্যন্ত আমাদের হোটেলের প্রায় ৬০ শতাংশ রুম বুকড রয়েছে।”
শতভাগ বুকিং সাজেক ভ্যালিতে
অন্যদিকে, রাঙ্গামাটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। ঈদের তৃতীয় দিনে সাজেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতি।
সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ জানান, “ঈদের প্রথম দুই দিনের তুলনায় আজ সাজেকের শতভাগ কটেজ ও রিসোর্ট বুকড হয়েছে। আমাদের আওতাধীন ১২৫টি রিসোর্টের সবগুলোতেই এখন পর্যটকরা অবস্থান করছেন।”
টানা ছুটির এই সুবর্ণ সুযোগে রাঙ্গামাটি ও সাজেকের পর্যটন খাত আবার নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে ঘোরাঘুরি নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
Development by: webnewsdesign.com