ভূরুঙ্গামারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নির্যাতনের অভিযোগ, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ | ৩:১৩ অপরাহ্ণ

ভূরুঙ্গামারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নির্যাতনের অভিযোগ, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
apps

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মানিকগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ কামরুন্‌নাহার বেগমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি সম্পদ নষ্ট ও শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তদন্ত দল সরেজমিন তদন্ত শুরু করেছে।

রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক মোঃ আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত অভিযোগ বিবরণীতে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের জমিতে থাকা পুকুর প্রতি বছর ১৫ হাজার টাকায় লিজ দিয়ে সেই অর্থ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয় মাঠের ২০টি গাছ অনুমতি ছাড়াই কাটা হয়েছে এবং গাছগুলো চুরি হয়েছে বলে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালীন প্রধান শিক্ষক তার আত্মীয়-স্বজন ও ভাড়াটে লোকজন দিয়ে সহকারী শিক্ষকদের মারধর করান। এ সময় সহকারী শিক্ষক মোঃ আবু বকর সিদ্দিকের হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অন্যদিকে ২০১৯ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিকের উপকরণ ক্রয় বাবদ বছরে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেলেও ২০১৮ সালের পর আর কোনো উপকরণ কেনা হয়নি বলে অভিযোগে বলা হয়। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের দুটি ল্যাপটপ ও একটি রাউটার দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাসায় নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিভাগীয় উপপরিচালক জানান, এসব কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) ধারা অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মানিকগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আরও চার জন সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি সম্পদ নষ্ট ও শিক্ষকদের ওপর হামলা করেছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ল্যাপটপ ও সরঞ্জামও তিনি বাসায় নিয়ে গেছেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার দাবি করছি।

অভিযোগের বিষয়ে অত্র মানিককাজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ কামরুন্‌নাহার বেগমের কাছে অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাকে স্কুল থেকে সরানোর জন্য এগুলো করা হচ্ছে। এর আগেও দুই বার তদন্ত হয়েছে এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেগুলো মিথ্যা প্রমাণ করে নিষ্পত্তি করেছেন।

উক্ত স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায় স্যারেরা মারামারি করেন। আমরা ভয়ে থাকি, স্কুলে আসতে চাই না। আমরা শান্তিতে পড়তে চাই।

অভিভাবকরা বলেন, “শিক্ষকদের কোন্দলের কারণে বাচ্চারা আতঙ্কে থাকে। কখন মারামারি লাগে সেই ভয়ে অনেকেই স্কুলে আসতে চায় না। পড়াশোনার ব্যাঘাত হচ্ছে।শিক্ষকরা সঠিক সময়ে স্কুলে উপস্থিত হচ্ছে না।এবং স্কুলে দীর্ঘদিন থেকে কমিটি না থাকার কারনে স্কুলের শিক্ষকদের মাঝে গন্ডগোল হচ্ছে বলে মনে করছেন। দ্রুত তদন্ত করে সমাধান চাই, নইলে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালকের তদন্ত গত ২৩ মে ২০২৬ ইং শনিবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত দলের প্রধান বলেন, “আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

Development by: webnewsdesign.com