ঢাকা
২৭ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে
সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মী নিহত, পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ টুথপেস্টেও মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে যা করবেন চা শিল্পের বিকাশে নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত, সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনে জেলা প্রশাসনের জোর প্রস্তুতি থানচিতে নৌকাডুবে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার, ৩০ জুলাই পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ সদর দপ্তর বিরোধ: ফটিকছড়িতে দিনভর থমথমে অবস্থা, ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু দেশে বছরে পানিতে ডুবে প্রাণ হারান ১৮ হাজার মানুষ, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা গ্যাসের চাপ কম, চট্টগ্রামে রান্নায় চরম ভোগান্তি কাঁচা মাছ খেয়ে এক মাস সাগরে! উদ্ধার হতেই পুলিশের হেফাজতে বাবা-ছেলে সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের আওলাদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

চট্টগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬   ১০১ বার পঠিত
চট্টগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত

হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নিলেন প্রবীণ রাজনীতিক, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে এই বর্ষীয়ান নেতাকে শেষ বিদায় জানান তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহচর, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।

সকাল থেকেই জমিয়াতুল ফালাহ প্রাঙ্গণে প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিন। জানাজায় রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে অংশ নেন বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সিপিবি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলমসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও বামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া মীরসরাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


জানাজা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। মীরসরাইয়ের সন্তান হলেও তিনি বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। তাঁর এই অবদান মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
​সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “পাকিস্তান আমল থেকে তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক। তিনি মানুষের কথা শুনতেন এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনেক সাহসী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। চট্টগ্রামের ইতিহাসে তিনি এক অবিস্মরণীয় নাম।”

​উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান তাঁর রণাঙ্গনের বীরত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা চিরস্মরণীয়। আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম।”

​বাবার জন্য দোয়া চেয়ে মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন আইসিইউতে লড়াই করার পর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। দেশের ও মানুষের সেবায় তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।”

জমিয়াতুল ফালাহ থেকে জানাজা শেষে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। এ সময় তাঁর অনুসারীরা ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। আজ বাদ আসর ধুম গ্রামের ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মীরসরাইয়ে জন্ম নেওয়া এই নেতা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় তিনি ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দেন তিনি।
​১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি মোট ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ এবং ২০১৪ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

​বর্ষীয়ান এই নেতার প্রয়াণে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa