সেনাবাহিনীর ও নৌবাহিনীর সদস্য সেজে অনলাইনে প্রতারণা করে কোটি টাকার সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩।গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি নিজেকে কখনো সেনাসদস্য, কখনো নৌসেনা কর্মকর্তা এমনকি নারী সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে ভিডিও কলে ইউনিফর্ম পরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতো এবং তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতো।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত প্রতারকের নাম মো. নাজমুল হাসান ওরফে জিম (২৪)। তিনি রংপুর জেলার পীরগাছা থানার অভিরাম (নামা দোলা) এলাকার মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
র্যাব-১৩, সিপিএসসি রংপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল বুধবার (১২ নভেম্বর ২০২৫) রাত ১টা ৩০ মিনিটে পীরগাছা থানার অভিরাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত জিম বিভিন্ন সময় সেনা বা নৌবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে নিজেকে কর্মকর্তা বা সৈনিক পরিচয় দিতো। অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে তার প্রতারণার শিকার হতো সাধারণ মানুষ। এমনকি নারী কণ্ঠে কথা বলে ও নারীর পোশাক পরে ভিডিও কলে উপস্থিত হয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করতেন।
বাদীর দায়ের করা মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রতারক জিম ও তার সহযোগীরা সেনা সদস্য পরিচয়ে রাজশাহীতে জমি কেনার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ১৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তারা জানায়, তাদের দুইটি ‘শেয়ার’ আছে-যার একটি একজন নারী সৈনিকের নামে। সেই নারী সৈনিকের পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য বাদীর কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নেয় তারা। পরে আরও ৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত দাবি করলে ভুক্তভোগীর সন্দেহ হয়। অনুসন্ধান করে তিনি জানতে পারেন, তারা কোনো সামরিক বাহিনীর সদস্য নয়—বরং সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়।গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অবশেষে প্রতারণা মামলার মূলহোতা নাজমুল হাসানকে রংপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে তার হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক পোশাক ও প্রতারণার আলামত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে-সেনাবাহিনীর কমব্যাট ড্রেস, গেঞ্জি, ফিল্ড ক্যাপ, ট্রাউজার ও টাওয়াল।নৌবাহিনীর সাদা থ্রি নং ড্রেস, জার্সি ক্যাপ, কমব্যাট গেঞ্জি ও টাওয়াল।বিভিন্ন বাহিনীর ক্যান্টিন গেঞ্জি ১৫টি, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ৯টি।পাঁচটি বাটন মোবাইল, একটি স্মার্টফোন, মেয়েদের পরচুলা ও সম্পূর্ণ মেকআপ সেট।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি প্রতারণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলা ও অনলাইনে মানুষকে ঠকানোর কথা স্বীকার করেছে। সে নারী কণ্ঠে কথা বলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করত এবং পরবর্তীতে “সামরিক কেলেঙ্কারিতে জড়ানোর ভয় দেখিয়ে” মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন“ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনলাইন প্রতারণা রোধে অব্যাহতভাবে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। সামরিক বাহিনীর পরিচয়ে যারা প্রতারণা করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
