রংপুরে বাড়ছে হাম আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৭

রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ | ২:৫০ অপরাহ্ণ

রংপুরে বাড়ছে হাম আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৭
apps

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।এ ঘটনায় রংপুরজুড়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।একই সঙ্গে বিভাগজুড়ে বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও।গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে নতুন করে আরও ২৩ জন হামের উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম মনি আক্তার (৯ মাস)। সে ঠাকুরগাঁও সদরের মাহাবুব আলমের মেয়ে। শনিবার রাতে রমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আ ন ম তানভীর চৌধুরী (নোমান)। তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে রাতে সে মারা যায়।

এ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল পর্যন্ত রমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭ শিশু ভর্তি রয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ২৫৮ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২১৭ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও ২৭ জন শিশু।

রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান,পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালের তিনটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন,“পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। শিশুদের জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি কিংবা চোখ লাল হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর অভিভাবক বলেন, “শিশুর জ্বর আর শরীরে ফুসকুড়ি দেখে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।দ্রুত হাসপাতালে আনার পর ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছেন। এখন কিছুটা ভালো আছে। আমরা চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই চলছি।”

এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে নতুন করে ২৩ জন হামের উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে পাঁচজন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আটজন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, গত ৩০ মার্চ থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগে মোট এক হাজার ১৩৮ জন হামের উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে এক হাজার ৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৭ জন রোগী।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ।সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিলে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।একই সঙ্গে জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Development by: webnewsdesign.com