
রাজশাহী জেলার দুর্গাপুরে শিশু হুমায়রা জান্নাত (৪) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় মানববন্ধন, মিছিল এবং সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্স থেকে হুমায়রার মরদেহ নামানো হয়।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। পুলিশ সন্দেহভাজন রাজীব হাসানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। রাজীব শিশু হুমায়রার বাবা হাসিবুল হোসেন শান্তর চাচাতো ভাই বলে জানা গেছে।
এর আগে দুপুরের পর হুমায়রার মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে হাটকানপাড়া বাজারে আনা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় জানাজা শেষে দাফনের কথা থাকলেও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে গ্রামবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মরদেহ দাফনে বাধা দেন। তাদের দাবি ছিল, চার ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানার ওসি ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা চেষ্টা চালালেও প্রথমদিকে ব্যর্থ হয়।
পরে ঘটনাস্থলে যান রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান ও পুঠিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তাদের আশ্বাসের পর অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামানো হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ সন্দেহভাজন রাজীব হাসানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন যুবক জানান, গত শনিবার দুপুরে রাজীবের বাড়ির সামনের এলাকা থেকে হুমায়রার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের দাবি, ঘটনার পর থেকেই গ্রামবাসীর সন্দেহ রাজীবের দিকে থাকলেও পুলিশ শুরুতে তার বাড়িতে তল্লাশি বা জিজ্ঞাসাবাদ না করায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণেই জনতা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ করেন।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিশুটির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। পরে এ বিষয়ে জানানো হবে।”
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় হুমায়রা জান্নাত। পরদিন শনিবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত হুমায়রা উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা হাসিবুল হোসেন শান্তর মেয়ে।
