জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহে সম্মত হয়েছেন। নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ট্রাম্পের এ ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার মতে, এ চুক্তি রাশিয়াকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সুবিধা দেওয়ার শামিল।

চুক্তির আওতায় আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে রাশিয়ার অন্যান্য সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার শোধনাগারগুলোর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা সম্ভব। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির জ্বালানি উৎপাদন কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে জ্বালানি বাণিজ্যের সুযোগ দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তার অভিযোগ, মস্কো এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখতে পারে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানি যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জ্বালানির ব্যয় কতটা কমাবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকার মধ্যেই এ চুক্তির ঘোষণা এসেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনপন্থি রাজনীতিক ও ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। সমালোচকদের আশঙ্কা, রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়নে পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে পারে।