
একদিকে জীবনযুদ্ধের কঠিন লড়াই, অন্যদিকে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি—দুটিই সমানতালে সামলাচ্ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী জামশেদুল ইসলাম।
বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও কর্মক্ষমতাহীন হওয়ায় চার সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব চেপে বসে এই তরুণের কাঁধে।
পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে সাইকেল চালিয়ে উপার্জিত আয় দিয়েই চলত তাঁর সংসার।
কিন্তু হুট করে আয়ের একমাত্র মাধ্যম সেই সাইকেলটি চুরি হয়ে যাওয়ায় চারদিক অন্ধকার দেখতে শুরু করেন জামশেদ।
সংসার চালানো, পড়াশোনা আর পরীক্ষা—সব মিলিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তায় পড়ার পর প্রতিকূলতার মুখেও হার না মেনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হন এই সংগ্রামী শিক্ষার্থী।
আবেদনটি নজরে আসতেই দেরি করেননি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
ডেকে নেন জামশেদকে, শোনেন তাঁর আত্মপরিচ্ছন সংগ্রামের গল্প। এরপর বাড়িয়ে দেন মানবিকতার হাত।
সোমবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জামশেদের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁর পছন্দের একটি নতুন সাইকেল।
জামশেদের এই স্পৃহাকে সম্মান জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “একজন ছাত্র নিজে কাজ করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে—আমি তার এই অদম্য মানসিকতাকে সম্মান জানাই।
সে কাজ ও পড়াশোনা দুটোই ধরে রাখতে চেয়েছে, তাই জেলা প্রশাসন তার পাশে দাঁড়িয়েছে।
কোনো অবস্থাতেই যেন তার পড়াশোনা থমকে না যায়, এটাই আমাদের চাওয়া।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরুণ শিক্ষার্থীরাই দেশের মূল শক্তি; তাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা মেধাবীদের পাশে জেলা প্রশাসনের সহায়তার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
নতুন সাইকেল হাতে পেয়ে আবেগে আপ্লুত জামশেদুল ইসলাম বলেন, “সাইকেলটি চুরি হওয়ার পর নতুন করে কেনার মতো সামর্থ্য আমাদের ছিল না।
ডিসি স্যার আমার কথা শুনে পছন্দমতো একটি সাইকেল কিনে দিয়েছেন। এখন আমি আবারও কাজে ফিরতে পারব এবং পড়াশোনাটাও চালিয়ে যেতে পারব।
একটি নতুন সাইকেল কেবল যাতায়াতের বাহন নয়, জামশেদের জন্য তা যেন ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন উপহার।
বনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় নতুন আশা নিয়ে পরীক্ষার ফাঁকে আবারও রাইডারের পোশাকে রাজপথে নামছেন জামশেদ—একহাতে পরিবারের স্বপ্ন, অন্যহাতে নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার।
