
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১নং খাগড়াছড়ি ইউনিয়নের গামারিঢালা মৌজায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক জুম্ম পরিবারের পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন সেটেলারের বিরুদ্ধে।
গত শনিবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে মৌজার নতুন পাড়ায় এই দখলের ঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে স্থানীয় পাহাড়ি অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গামারিঢালা মৌজার আর.এস ৫ নম্বর খতিয়ানের ৭.৯৫ একর ভূমির মূল মালিক ছিলেন কাপ্তাই বাঁধে ক্ষতিগ্রস্ত প্রজা স্বর্গীয় প্যারী মোহন চাকমা।
২০০৩ সালে তাঁর মৃত্যুর পর ওয়ারিশগণ ভূমিতে এজমালি ভোগদখলে আছেন।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মো. মঈনুল ইসলাম, মো. সামাদ ও সাহেরা বেগমসহ তাঁদের সহযোগীরা জমিটি দখলের পাঁচতারা করে আসছিলেন।
পূর্ববর্তী বিরোধের জেরে গত বছর (২০২৫ সালের ২৯ জুলাই) প্যারী মোহন চাকমার সন্তান ও ওয়ারিশ বৈরী মিত্র চাকমা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা (মামলা নং…) দায়ের করেন।
খাগড়াছড়ি সদর সহকারী কমিশনারের (ভূমি) তদন্ত প্রতিবেদনে বাদীর নিরঙ্কুশ দখলের সত্যতা মেলে।
এর ভিত্তিতে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ বাদীর পক্ষে রায় দেন এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
অভিযোগ উঠেছে, আদালতের রায় ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শনিবার গভীর রাতে বিবাদীরা সশস্ত্রে জমিতে প্রবেশ করে অবৈধভাবে একটি ঘর নির্মাণ করেন।
বর্তমানে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে আরও স্থাপনা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জমির ওয়ারিশ বাগিশ চাকমা জানান, “আদালতের রায় ও পাশের বিজিতলা আর্মি ক্যাম্পের উপস্থিতি সত্ত্বেও কীভাবে রাতারাতি জমি বেদখল হয়, তা রহস্যজনক।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিবাদীদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তারা তা মানেনি।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি সদর থানার পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল এবং বিবাদীদের বেআইনি কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশি তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দখলদারদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
