ঢাকা
১৩ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর অভিযানে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ৩

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৩ জুলাই ২০২৫   ২৫১ বার পঠিত
রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর অভিযানে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজশাহী মহানগরীর টিকাপাড়া ও খুলিপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। বুধবার (২ জুলাই) দুপুর ২টা ৩০ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সেনাবাহিনী অভিযানে কথিত সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জুলু, তার ছেলে জিম ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত অপরজন হলো মো: মুন্না। সে জিমের সহযোগী। এসময় অস্ত্রের খোঁজে জুলুর বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, জুলুর বিরুদ্ধে ঢাকায় ৫ আগস্টে ছাত্র জনতার ওপর হামলার অভিযোগে হত্যা মামলা রয়েছে। ওই মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আসামি রয়েছেন। জুলু রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও ১৪ মামলা রয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে জুলু স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপির এক নেতার ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেন। রাজশাহীতে হওয়া ৫ আগস্টের বিভিন্ন মামলার আসামিদের কাছ থেকেও বাণিজ্য শুরু করেন এই জুলু বাহিনী।
জুলুসহ কয়েকজন কথিত সাংবাদিকের নেতৃত্বে রাজশাহী প্রেসক্লাব দখল করে ব্যাপক চাঁদাবাজি চালাতে শুরু করেন শহরজুড়ে। এসব অপকর্মের অন্যতম সহযোগী ছিলেন কথিত আরও কয়েকজন সাংবাদিক।

জুলুর ইন্ধনে তার ছেলে-ভাতিজারাও শহরজুড়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেন। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। কয়েকজ সাংবাদিককেও নির্যাতন করা হয়।

এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে জুলুর ইন্ধনে মহানগরীর বাসাররোড এলাকায় চাঁদার দাবিতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে কয়েকজন সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় সিয়াম ইসলাম রাজ নামের এক যুবক ওইদিন রাতে বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

মামলা পর সেনাবাহিনী বুধবার দুপুরে জুলুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জুলুসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় হস্তান্তর করে।

এদিকে, এদিকে নজরুল ইসলাম জুলু গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় জনতা ও নির্যাতিতদের মাঝে আনন্দের জোয়ার নেমে আসে। তারা বুধবার রাতেই রাজশাহী প্রেসক্লাবে গিয়ে জুলুর রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করেন। এলাকাতেও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, কথিত সাংবাদিক জুলু আমাদের প্রেসক্লাবটি জোর করে দখল করে রেখেছিল। তার কয়েকজন সহযোগী মিলে প্রেস ক্লাবটিকে টর্চার সেলে পরিণত করেছিল। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে সেখানে কৌশলে ডেকে নিয়ে এসে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদাবাজি করা হতো। এই চাঁদাবাজির ভাগ যেত আরো কয়েকজন কথিত সাংবাদিকের পকেটে। তারা জুলুকে আশ্রয় প্রশ্রয়ে আরও ব্যবহার করতেন ।

কথিত এই সাংবাদিকরা গত পাঁচ আগস্টের পরে মহানগরজুড়ে ব্যাপক চাঁদাবাজিতে মেতে উঠে। এদের বিরুদ্ধে ও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এদের কেউ কেউ এরই মধ্যে নতুন নতুন মোটরসাইকেল কেনা, নতুন অফিস করাসহ বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন।’

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa