ঢাকা
২৬ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে
চা শিল্পের বিকাশে নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত, সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনে জেলা প্রশাসনের জোর প্রস্তুতি থানচিতে নৌকাডুবে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার, ৩০ জুলাই পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ সদর দপ্তর বিরোধ: ফটিকছড়িতে দিনভর থমথমে অবস্থা, ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু দেশে বছরে পানিতে ডুবে প্রাণ হারান ১৮ হাজার মানুষ, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা গ্যাসের চাপ কম, চট্টগ্রামে রান্নায় চরম ভোগান্তি কাঁচা মাছ খেয়ে এক মাস সাগরে! উদ্ধার হতেই পুলিশের হেফাজতে বাবা-ছেলে সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের আওলাদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ভারতীয় সহকারি হাই কমিশনার সিলেটের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের ঘোষণা চিফ প্রসিকিউটরের

বরিশালে পরেশ সাগর স্কুল মাঠের বাণিজ্য মেলা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬   ১৩১ বার পঠিত
বরিশালে পরেশ সাগর স্কুল মাঠের বাণিজ্য মেলা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ সাগর স্কুল মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট মেলা কার্যক্রম বন্ধে রুল অ্যান্ড ডাইরেকশন প্রদান করেছেন। সোমবার (১৮ মে ২০২৬) হাইকোর্ট বিভাগের ১১ নম্বর মূল বেঞ্চে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আশিফ হাসান–এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল ও নির্দেশ দেন। আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ পরাজিত হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি–এর চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন আকাশ–এর নির্দেশনায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রনি শিকদার গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় জনস্বার্থে (Public Interest Litigation) হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর রিট পিটিশন নং- ৬২৫৯/২০২৬। রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ জাকির হোসেন।

রিটে উল্লেখ করা হয়, সরকারি নীতিমালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক নির্দেশনা এবং জনস্বার্থ উপেক্ষা করে বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরেশ সাগর স্কুল মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার অনুমতি দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে শব্দদূষণ, যানজট, জনদুর্ভোগ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও রিটে তুলে ধরা হয়।
শুনানিকালে রিটকারীর আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত “মেলা পরিপত্র-২০২৪” অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন নীতিমালাবিরোধী। গত ২৪ জুন ২০২৪ তারিখে জারি হওয়া ওই পরিপত্রের স্মারক নম্বর ২৬.০০.০০০০.১০৩.২৫.০০২.২৪-১৩০, যা ১ জুলাই ২০২৪ থেকে কার্যকর হয়। পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ছাড়া দেশের অন্য কোথাও বাণিজ্য মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার পরিহার করতে হবে।

রিটে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হলে প্রথমে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়। পরবর্তীতে আইনজীবীর মাধ্যমে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে মেলার অনুমতি বাতিলের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব আবেদন ও নোটিশের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

পরবর্তীতে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলার অনুমতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কেন সংশ্লিষ্ট অনুমতি বাতিল করা হবে না। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মেলা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

শুনানিকালে রিটকারীর আইনজীবী আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ কোনোভাবেই বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি শুধু সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী নয়, বরং শিশুদের নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ, উন্মুক্ত খেলাধুলার অধিকার এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

হাইকোর্টের এ রুল অ্যান্ড ডাইরেকশনের পর বরিশালজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজ, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন আদালতের এ পদক্ষেপকে সময়োপযোগী এবং জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানকে বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে রক্ষায় এ নির্দেশ ভবিষ্যতের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় দায়ের করা এ জনস্বার্থমূলক রিট দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa