ভাইরাসজনিত মারাত্মক একটি সংক্রামক রোগ হাম। আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ রোগ অতি দ্রুত ছড়ায়। যেকোনো বয়সে হাম হতে পারে। তবে শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ, জটিলতা ও মৃত্যু বেশি দেখা যায়।

জটিলতাগুলোর মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এনকেফালাইটিস, অন্ধত্ব ও বধিরতা অন্যতম। হামের মতো রুবেলাও ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এর ছড়ানোর মাধ্যমও হাঁচি-কাশি।

গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে মা থেকে গর্ভের শিশু আক্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে গর্ভপাত, এমনকি গর্ভের শিশুর মৃত্যু হতে পারে অথবা গর্ভজনিত বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে শিশু জন্ম গ্রহণ করে, যা কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম নামে পরিচিত। এসব রোগ থেকে শিশুকে বাঁচানোর উপায় হচ্ছে সঠিক সময়ে তাকে টিকা দেওয়া।

‘আয় আয় সোনামণি টিকা নিয়ে যা’ এই স্লোগান নিয়ে সারাদেশের ন্যায় মৌলভীবাজারে শুরু হয়েছে হাম ও রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন। এ বছর মৌলভীবাজার জেলার সকল পৌর এলাকায় ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৪
জানুয়ারি পর্যন্ত এই টিকাদান কর্মসূচি চলবে।

১৯ ডিসেম্বর থেকে উপজেলা পর্যায়ে শুরু হয়ে চলবে ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত। ৯মাস থেকে ১০ বছরের শিশুদের এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান ক্যাম্পে টিকা প্রদান করা হবে। এ উপলক্ষ্যে মৌলভীবাজারে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের ইপিআই ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা. তওহীদ আহমদ, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম শেফুল, সাধারণ সম্পাদক পান্না দত্তসহ অনেকে।

সিভিল সার্জন ডা. তওহীদ আহমদ জানান, “হাম ও রুবেলা ভাইরাসজনিত দুটি মারাত্মক রোগ। এই দুটি রোগ সাধারণত একজন আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে তার সংস্পর্শে আসা অন্যদের মধ্যে অতিদ্রুত ছড়ায়। ৯ মাস থেকে শুরু করে ১০ বছরের কম বয়সী সকল শিশু এই টিকা নিবেন। পূর্বে হামের টিকা বা এমআর টিকা পেয়ে থাকলেও অথবা হাম বা রুবেলা রোগে আক্রান্ত হলেও ঐ বয়সের সকল শিশুকে ১ ডোজ এমআর টিকা দেয়া হবে”।

তিনি আরো জানান, “অনেক অভিভাবক হয়তো ভাববেন যে শিশুকে আগে হাম বা রুবেলার টিকা দিলাম এখন দিতে হবে কেন? কারণ কখনো কখনো একবার টিকা নিলে শিশুর শরীরে হাম বা রুবেলার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি নাও তৈরি হতে পারে।

এক্ষেত্রে ক্যাম্পেইনের সময় অতিরিক্ত টিকা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে জন্মায়। এছাড়া ক্যাম্পেইনের সময় অনেক শিশু এই টিকা থেকে থেকে বাদ পরেন বা অভিভাবক নিয়মিত টিকা প্রদান নিশ্চিত নাও করতে পারেন। তাই পুনরায় হাম ও রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন করা হয়ে থাকে”।