গত সাত মাসে দেশের দুই কোটিরও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, বিগত সময়ের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্রগতি হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে ইপিআই ও ভিপিডি সার্ভেইল্যান্সের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ফলাফল অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসময় বাংলাদেশের ইপিআই কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রশংসিত মডেল ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচি শিশুদের অকালমৃত্যু ও প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধের পাশাপাশি দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকাতেও টিকাদান সেবা পৌঁছে দিয়েছে। তবে অব্যবস্থাপনার কারণে সফল এই কর্মসূচিতে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ সংকট মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গত সাত মাসে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

তবে হামের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে সতর্ক করেন ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা ও সংকট দ্রুত দূর করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের টিকাদান কর্মসূচির হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনা সম্ভব।