মানুষের জীবনে টাকার প্রয়োজনীয়তা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, কোনো কোনো সময় সেই টাকা হয়ে ওঠে জীবনের জন্য নিষ্ঠুরতম বাধা। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কাচু আলুটারী গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া তরুণ মো. জহরুল ইসলাম এখন সেই নির্মম বাস্তবতার শিকার। কয়েক মাস আগে তার ঘাড়ে ছোট একটি টিউমার ধরা পড়ে।
প্রথমে পরিবার ভেবেছিল সাধারণ গুটলি, চিকিৎসা করালে সেরে যাবে। কিন্তু দ্রুতই টিউমারটি বড় হতে থাকে এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ে ক্যানসারে রূপ নেয়। এখন তার জরুরি অপারেশন প্রয়োজন, এরপর চিকিৎসকরা বলেছেন দিতে হবে কেমোথেরাপি। কিন্তু টাকার অভাবে থেমে আছে সব চিকিৎসা।
জহরুল ইসলামের বাবা আজগর আলী, পেশায় দিনমজুর। মা জরিনা খাতুন গৃহিণী। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই যেখানে পরিবারকে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে লাখ টাকার চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের জন্য অসম্ভব। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন জহরুল। ভর্তি আছেন সার্জারি ইউনিট-১, ওয়ার্ড নং-২৭, বেড নং-২-এ। চিকিৎসকরা অপারেশনের প্রস্তুতি নিলেও টাকার অভাবে তা করা সম্ভব হচ্ছে না।
অসুস্থ জহরুল কথায় কথায় ভেঙে পড়েন।কণ্ঠ কাঁপা গলায় তিনি বলেন-আমি বাঁচতে চাই। একটা টিউমারের জন্য আমার জীবনটা থেমে যাবে নাকি? ডাক্তাররা বলছেন দ্রুত অপারেশন করতে হবে, এরপর কেমোথেরাপি। কিন্তু সেই টাকার ব্যবস্থা কোথায়? বাবার সামর্থ্য নেই। আমি তো এখনও বাঁচার বয়সেই আছি…”
চিকিৎসকদের মতে, টিউমার ইতোমধ্যে ক্যানসার সেলে রূপ নিয়েছে। দ্রুত অপারেশন না হলে তা আরও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। চিকিৎসার ব্যয়, টেস্ট, অপারেশন, হাসপাতাল থাকা, কেমোথেরাপি-সব মিলিয়ে খরচ হবে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। টাকার অভাবে চিকিৎসা এখন বন্ধ।
জহরুলের মা জরিনা খাতুন চোখ মুছতে মুছতে বলেন-আমি গরিব ঘরের মানুষ। ছেলে আমার বড় কষ্টে আছে। ডাক্তাররা বলছে টাকা ছাড়া কিছুই করা যাবে না। কোথায় পাবো এত টাকা? আমার ছেলেটা যেন আর মারা না যায়-মানুষের কাছে সেই দোয়া চাই।”
স্থানীয় সমাজকর্মী আতিয়ার রহমান বলেন“জহরুল খুব ভদ্র এবং পরিশ্রমী ছেলে। জীবনের শুরুতেই এমন বিপদে পড়েছে। আমরা স্থানীয়ভাবে কিছু সাহায্য তুলছি, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। সময় খুব কম। এখনই অপারেশন দরকার। হৃদয়বান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
এছাড়া গ্রামের যুবক সাজেদুল ইসলাম বলেন-গ্রামের সবাই মিলে চেষ্টা করছি, কিন্তু পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা অসম্ভব। জহরুলের চোখে বাঁচার আকুতি। সমাজের সবাই পাশে দাঁড়ালে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।”
জহরুলের পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং গ্রামের মানুষ এখন অপেক্ষা করছে মানবিক সমাজের স্পর্শের। কারণ একমাত্র অপারেশন আর সময়মতো চিকিৎসাই পারে এই তরুণের জীবনকে আবার ফিরিয়ে দিতে।পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মানুষ মানুষের জন্য। সামান্য সহায়তাও জহরুলের জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা সকলের কাছে অনুরোধ করছি-একবার হাত বাড়িয়ে দিন, একটি তরুণ প্রাণকে নতুন আলো দিন।”
জহরুলের জীবন বাঁচাতে সাহায্য পাঠাতে যোগাযোগ-০১৭১৬-৬৫২৪৭২
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের চিকিৎসক মো. লিটন খন্দকার জানান-রোগীর ঘাড়ের টিউমারটি এখন ক্যানসারে পরিণত হয়েছে। দেরি করলে বিস্তারের ঝুঁকি আরও বাড়বে। দ্রুত অপারেশন ও পরবর্তী কেমোথেরাপি ছাড়া বিকল্প নেই। তবে চিকিৎসার ব্যয় পরিবার বহন করতে না পারায় চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে।
