কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাঁকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হকের কাছে তাঁকে হাজির করা হয়। পরে কয়েক ঘণ্টা ধরে জবানবন্দি দেওয়ার পর রাত ৭টা ২০ মিনিটে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক সাদেকুর রহমান জানান, বিচারকের কাছে সুমন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাজমিনকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। পরে তাঁকে লালমাইয়ের একটি ফসলি জমিতে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর তাজমিনের আইফোন বন্ধ করে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান সুমন। শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিল। তার বাড়ি যশোরে হলেও পরিবারের সঙ্গে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত।
ঘটনাটি এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও অন্যান্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন