ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসন। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে টিকিটে উল্লেখ করা নামের সঙ্গে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম না মিললে তাঁকে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে স্টেশনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে টিকিট যাচাই শুরু হয়েছিল। তবে তিনি বদলি হওয়ার পর সেই কার্যক্রম আর নিয়মিত থাকেনি। এতে টিকিট কালোবাজারি আবারও বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

সম্প্রতি টিকিট কালোবাজারি নিয়ে স্বপ্রণোদিত মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নোমান। গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের আদালতে করা মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। গত ১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআইয়ের সিলেট কার্যালয়ে পৌঁছায়।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে অংশ নেন। এ সময় টিকিট বিক্রি ও যাত্রীদের পরিচয় যাচাইয়ে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া যায়। কয়েকজন যাত্রীর টিকিটের নামের সঙ্গে এনআইডির তথ্যের অমিলও ধরা পড়ে।

অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক জানান, নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে যাত্রীদের তিন থেকে চার দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। ১২ অক্টোবর থেকে নিয়মটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। সিলেট থেকে ঢাকা কিংবা অন্য কোনো গন্তব্যে যেতে হলে টিকিটের নাম ও পরিচয়পত্রের তথ্য মিলতে হবে।

তিনি আরও জানান, নিয়মিতভাবে স্টেশনে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেও যাত্রীদের পরিচয়পত্র যাচাই করবেন।