আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন ব্যাটিংয়ে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে ৩১৭ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার দিনের খেলা শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে এই রান করেছে টাইগাররা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও শাদমান ইসলামের দৃঢ়তায় দারুণ সূচনা পায় বাংলাদেশ। তবে মাঝের সেশনে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। পরে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ালেও দিনের শেষ দিকে আবারও উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
দিন শেষে নাঈম হাসান ১১ এবং তাইজুল ইসলাম ৪ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ৮৪ ওভারে ৩১৭ রানে।
শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৩ রান করে ইসমাত আলমের বলে আউট হন তিনি। শাদমান ইসলামের সঙ্গে প্রথম উইকেটে ১২৪ রানের জুটি গড়েন তানজিদ।
অন্য প্রান্তে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করা শাদমান ১১১ বলে ৭টি চারে ৬৭ রান করেন। দলীয় ১৮৪ রানে তার বিদায়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামে।
মুমিনুল হক ৭০ বলে ৩৯ রান করে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৪২ বলে ২৯ রান। এরপর কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।
একপর্যায়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের ৬২ রানের জুটি দলকে বিপর্যয় থেকে কিছুটা উদ্ধার করে। ৬৭ বলে ২৪ রান করে মিরাজ আউট হলেও লিটন নিজের লড়াই চালিয়ে যান।
শেষ পর্যন্ত ৮৯ বলে ৫৩ রান করে মোহাম্মদ সালিমের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন। তার ইনিংসে ছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাউন্ডারি।
লিটনের বিদায়ের পর একই ওভারে ২ রান করা হাসান মাহমুদও আউট হন। এতে ৩০৩ রানে ৬ উইকেট থেকে মাত্র ২ রান যোগ করতেই ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি। তাদের অপরাজিত ব্যাটিংয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ ৩১৭ রানে।
আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ সালিম। ১৯ ওভারে ৭০ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ৩ উইকেট। ইয়ামিন আহমদজাই ও ইসমাত আলম পেয়েছেন ২টি করে উইকেট।
প্রথম দিনের শেষে তিনটি অর্ধশতকের সুবাদে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পেলেও বাংলাদেশের হাতে রয়েছে মাত্র দুই উইকেট। দ্বিতীয় দিনে তাইজুল ও নাঈমের ব্যাটিং এবং পরবর্তী সময়ে বোলারদের পারফরম্যান্স ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন