
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে নিখোঁজ হওয়া সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণ ও গুমের ঘটনায় সাবেক এক সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ কর্মকর্তার নাম ফজলুর রহমান। ঘটনার সময় তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্র জানায়, রাজধানীর বাড্ডা এলাকার নিজ বাসভবন থেকে ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি ও গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাইব্যুনালের প্রধান ফটকে গাড়ি থেকে নামার পরপরই ফজলুর রহমান ও তাঁর সঙ্গীয় টিম সুখ রঞ্জন বালীকে জোরপূর্বক একটি ডাবল-কেবিন পিকআপে তুলে নিয়ে যায়।
অভিযোগে বলা হয়, তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে চোখ ও হাত বেঁধে ডিবির হেফাজতে রেখে চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে তাঁকে সীমান্ত পার করে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন সেখানকার জেলে বন্দি ছিলেন।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট সুখরঞ্জন বালী নিজে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার জানান, ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক এএসপি ফজলুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাটিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
