বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল কিনে এখনো লোকসান দিতে হচ্ছে সরকারকে। তাই আপাতত তেলের দাম কমানো যাবে না। তবে আশার কথা, তেল কিনে বিপিসিকে প্রতিমাসে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান দিতে হতো, সেটি এখন অনেক কমে এসেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ব্রেন্ট ক্রুডের (অপরিশোধিত তেল) দাম প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার থেকে বাড়তে থাকে। ৪ মে সেই দাম ১১৪ দশমিক ৪৪ ডলারে উঠে যায়। সেই তেলের দাম ২৪ জুন নেমে আসে ৭৫ দশমিক ৫০ ডলারে। বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, মে মাসে ৩০ হাজার টনের একটি ডিজেলবাহী জাহাজের বিল দিতে হয়েছে ৫ কোটি ডলার পর্যন্ত। সেখানে এখন দিতে হচ্ছে ৩ কোটি ডলার। বাংলাদেশ প্রতিমাসে ১৫ জাহাজের মতো তেল কিনে থাকে।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এলএনজি, কয়লা ও সারের ভর্তুকি বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। কিন্তু বিপিসিকে এক টাকাও তেল কিনতে ভর্তুকি দেয়নি। বিপিসির বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি জমা ছিল। সেই টাকা রাখা হয়েছিল বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য। সেখান থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা তুলে লোকসান সামাল দেওয়া হয়েছে। এখন সেই লোকসানের ১৭ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিতে জ্বালানি বিভাগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে বিপিসি। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, লোকসানের টাকা ভর্তুকি আকারে না দিলেও অন্তত এনবিআর-এর আমদানি শুল্ক আপাতত মওকুফ করা দরকার। বিপিসি তেল আমদানিতে প্রতি লিটারে ৩৫ টাকার বেশি শুল্ক দেয় এনবিআরকে।
আইএমএফ-এর (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) ফর্মুলা অনুযায়ী বিপিসি আগের মাসের ২১ থেকে পরবর্তী মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত তেলের আমদানি ব্যয় গড় করে পরবর্তী মাসের দাম নির্ধারণ করে। এই হিসাবে ২১ মে থেকে ২০ জুন পর্যন্ত বিপিসি হিসাব করে দেখেছে, ওই সময়ে তাদের প্রতি লিটার ডিজেল কেনা পড়েছে ১৫৩ টাকা ২১ পয়সা। আর অকটেন কেনা পড়েছে ১৪৪ টাকা ৪৭ পয়সা। এ হিসাবে গত মাসে ডিজেল বিক্রিতে কিছুটা লোকসান হলেও অকটেন বিক্রিতে লাভ হয়েছে বিপিসির। এ দাম দেখেই ১ জুলাই থেকে তেলের নতুন দাম ঘোষণা করবে সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর ১০ দিনের মধ্যে মজুত কমে যাওয়ায় দেশে তেলের রেশনিং করতে হয়েছে। গাড়ির চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করার মতো দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের আওতায় জুলাইয়ে ৩ লাখ টন ডিজেল, ২৫ হাজার টন অকটেন, ৭৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল এবং ৬০ হাজার টন জেট ফুয়েল কিনবে বিপিসি। ওই দরপত্রের মাধ্যমে আগস্ট পর্যন্ত ৭ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন অকটেন, ২ লাখ টন ফার্নেস অয়েল এবং ১ লাখ ৭০ হাজার টন জেট ফুয়েল কেনা হবে। এর বাইরে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে আরও ১৬ লাখ টন তেল কিনবে সরকার। এজন্য সিঙ্গাপুরে ২০ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ১০টি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা করেছে জ্বালানি বিভাগ এবং বিপিসি। যার নেতৃত্ব দিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
জানা যায়, বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগ ৯০ দিনের তেলের মজুত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আপাতত বিপিসির কাছে তেল রাখার ট্যাংক আছে ৪৫ দিনের মতো। আরও ট্যাংক বসাতে বিতরণ কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাকে বলা হয়েছে।