ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প, কেঁপেছে ব্রাজিল ও কলম্বিয়াও
শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস। এর প্রভাব প্রতিবেশী ব্রাজিল ও কলম্বিয়াতেও অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর অন্তত ২০টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ।
বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ৭ দশমিক ৫। পরবর্তীতে একাধিক পরাঘাত অনুভূত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে আঘাত হানে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ইউমার এলাকার কাছে দ্বিতীয় ও অধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়।
ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। প্রাথমিকভাবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া না গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ভবনধসসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
ভেনেজুয়েলার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রেলসেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজধানী কারাকাসে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির কয়েকটি অঞ্চলেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্রাজিলীয় নাগরিকের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ইউএসজিএসের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ভূমিকম্পটি প্লেট দুটির সীমানার কাছে ‘শেলো স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং’-এর কারণে সংঘটিত হয়েছে, যা শক্তিশালী কম্পনের অন্যতম কারণ।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে আরও উল্লেখযোগ্য পরাঘাতের আশঙ্কা রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।