ঢাকা
২৬ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে
কাঁচা মাছ খেয়ে এক মাস সাগরে! উদ্ধার হতেই পুলিশের হেফাজতে বাবা-ছেলে সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের আওলাদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ভারতীয় সহকারি হাই কমিশনার সিলেটের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের ঘোষণা চিফ প্রসিকিউটরের দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট থমকে যাওয়ার ঝুঁকিতে দেশের শিল্প খাত সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া সুখরঞ্জন বালীকে গুমের অভিযোগ: সাবেক এএসপি ফজলুর রহমান গ্রেপ্তার কিশোরী ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: শিক্ষিকার বাবা গ্রেফতার জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল: সংসদ সদস্য পদ নিয়ে শুরু নতুন আলোচনা জামায়াত থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ঝালকাঠি পৌরসভায় নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক বাস টার্মিনাল, মাল্টিপারপাস মার্কেট ও সিটি পার্ক, বরাদ্দ প্রায় ৩৮ কোটি টাকা

সময় থামেনি, থেমে গেল শিশুর জীবন—চমেকে বাবার আর্তনাদ

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬   ৯৮ বার পঠিত
সময় থামেনি, থেমে গেল শিশুর জীবন—চমেকে বাবার আর্তনাদ

সাড়ে ১১ হাজার টাকার একটি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার (অক্সিজেন পাইপ) জন্য গত কয়েক ঘণ্টা ধরে হন্যে হয়ে ছুটেছেন বাবা মোহাম্মদ আলম। একপর্যায়ে একটি কোম্পানির কাছে সন্ধানও মিলল, কথা ছিল আধা ঘণ্টার মধ্যে সেটি হাসপাতালে পৌঁছাবে। কিন্তু জীবন রক্ষাকারী সেই অক্সিজেন পাইপ পৌঁছানোর আগেই নিভে গেল ৯ মাস বয়সী শিশু সুরাইয়ার প্রাণের স্পন্দন। মেয়ের নিথর দেহের খবর যখন বাবার মুঠোফোনে এলো, তখনো তাঁর হাতে ধরা ছিল নাজাল ক্যানুলার নাম লেখা সেই স্লিপটি।
​আজ সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সামনে ঘটে এই মর্মস্পর্শী ঘটনা।
​জানা যায়, শিশু সুরাইয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে একটি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা জোগাড় করতে বলেন। অভাবের সংসারে টাকার চিন্তার চেয়েও তখন বড় হয়ে উঠেছিল সঠিক সময়ে অক্সিজেন পাইপটি খুঁজে পাওয়া। হন্যে হয়ে চারদিকে ছোটাছুটি করে শেষ মুহূর্তে একটি কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন আলম। ফোনে কাউকে অনুনয় করে দ্রুত সেটি পাঠানোর জন্য আকুতিও জানাচ্ছিলেন তিনি।
​কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, পাইপটি হাসপাতালে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক মিনিট আগে আইসিইউর ভেতর থেকে এক নার্স ফোনে আলমকে জানান, তাঁর মেয়ে আর বেঁচে নেই। খবরটি শোনামাত্রই আইসিইউর সামনের বারান্দায় কান্নার দমকে ভেঙে পড়েন অসহায় এই বাবা।
​কিছুক্ষণ পর আইসিইউর দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন সুরাইয়ার মা ছেনোয়ারা বেগম। সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ মা বিলাপ করতে করতে চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আর কিচ্ছু লাগবে না… আমার মেয়ে নাই। আর কোনো অক্সিজেন পাইপ লাগবে না।”
​হাসপাতালের আইসিইউর সামনে উপস্থিত অন্যান্য সাধারণ মানুষ ও রোগীর স্বজনদের মাঝেও এই দৃশ্য দেখে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাড়ে ১১ হাজার টাকার যে জিনিসটি কিনতে পারলে হয়তো বেঁচে যেত একটি প্রাণ, চোখের পলকে সেটি রূপ নিলো এক টুকরো অর্থহীন কাগজে।
Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa