বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা—সবকিছুই এখন বড় পরীক্ষার নাম| এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করেছেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে| দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের সমন্বয়ে দেশ পরিচালনায় যে সক্রিয়তা দেখিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই আশাব্যঞ্জক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে|
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল| প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা জাতীয় উদ্বেগে পরিণত হচ্ছিল| ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী পর্যন্ত কেউ নিরাপদ বোধ করছিল না| কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে| বিশেষ করে ছিনতাই, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে|
বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে| প্রায় প্রতিদিনই ছিনতাইকারী ও অপরাধচক্রের সদস্যরা আটক হচ্ছে| আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনেকেই মাদকাসক্ত কিংবা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত| ফলে মাদক ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে—এমন বিশ্বাস এখন সমাজের বড় একটি অংশের মধ্যেই রয়েছে|
বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র| নদীমাতৃক এ দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি হলেও গ্যাস, কয়লা, পাথরসহ নানা ধরনের খনিজ সম্পদেও দেশ সমৃদ্ধ| অথচ নানা অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সাধারণ মানুষ এখনও মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা| নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে| তাই উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি|
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার ও জনগণমুখী রাষ্ট্র গঠনের যে পরিকল্পনার কথা বলছেন, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন ধাপে প্রবেশ করতে পারে| বিশেষ করে তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ সরকারের জনপ্রিয়তা আরও বাড়াতে পারে|
রাজনীতিতে জনপ্রিয়তার বড় মাপকাঠি হলো জনগণের সঙ্গে সংযোগ| বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন সময় প্রচলিত অতিরিক্ত ভিআইপি প্রটোকল ভেঙে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে দেখা যাচ্ছে| ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি—এসব বিষয় অনেকের নজর কেড়েছে| বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন দৃশ্য অতীতে খুব বেশি দেখা যায়নি বলেই সাধারণ মানুষ তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে|
তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ| জনগণ যাকে চায়, শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় তারাই টিকে থাকে| রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, দেশি-বিদেশি চাপ কিংবা সাময়িক সংকট কোনো সরকারকে দুর্বল করতে পারলেও জনগণের আস্থা থাকলে সেই সরকারকে সহজে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়| ইতিহাস তাই বলে|
দেশের সব মানুষ রাজনীতি করে না; কিন্তু দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার প্রশ্নে সবাই সচেতন| মানুষ শেষ পর্যন্ত সেই শক্তির পক্ষেই অবস্থান নেয়, যারা জনগণের কল্যাণে কাজ করে| তাই ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া|
বাংলাদেশের সামনে এখনো বহু চ্যালেঞ্জ রয়েছে—মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, দুর্নীতি, বৈদেশিক চাপ ও রাজনৈতিক বিভাজন| কিন্তু সঠিক নেতৃত্ব, কার্যকর প্রশাসন এবং জনগণের আস্থা থাকলে এ দেশকে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব নয়| জনগণ উন্নয়ন চায়, নিরাপত্তা চায়, স্থিতিশীলতা চায়| যে সরকার এসব নিশ্চিত করতে পারবে, শেষ পর্যন্ত জনগণ তার পক্ষেই রায় দেবে—এটাই গণতন্ত্রের বাস্তবতা|