রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্মরণে টানানো ব্যানার ও ফেস্টুন রাতের আঁধারে নামিয়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) যে কোনো এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত এসব ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চ বেরোবি শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান,শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে এবং তার বিপ্লবী আদর্শকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ইনকিলাব মঞ্চ ও সচেতন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং প্রধান সড়কের পাশের গাছ ও খুঁটিতে রশি দিয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়েছিল। এসব ব্যানারে শহীদ ওসমান হাদির ছবি, নাম ও স্মরণবার্তা সংবলিত বিভিন্ন স্লোগান ছিল।

তবে শনিবার সকালে ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীরা দেখতে পান, বেশ কয়েকটি ব্যানার ও ফেস্টুন সম্পূর্ণভাবে খুলে ফেলা হয়েছে।আবার কিছু ব্যানার গাছের ওপর থেকে নামিয়ে নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে ক্যাম্পাস জুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।তারা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়;বরং পরিকল্পিতভাবে শহীদের স্মৃতিকে অবমাননা করার অপচেষ্টা।শিক্ষার্থীদের দাবি,যারা এ ধরনের কাজ করেছে তারা মুক্তচিন্তা ও প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমন করতে চায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী বাইজিদ বোস্তামি বলেন,“শহীদ ওসমান হাদি আমাদের কাছে শুধু একজন ব্যক্তি নন,তিনি আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক।তার স্মরণে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যানার টানানো হয়েছিল।দুর্বৃত্তরা সেগুলো নামিয়ে প্রমাণ করেছে,তারা ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না।

ইনকিলাব মঞ্চ বেরোবি শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে ব্যানার অপসারণ একটি ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয় কাজ।যারা এ কাজ করেছে,তাদের শনাক্ত করতে আমরা ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার চেষ্টা করছি। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদদের স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না।এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, কিছু গোষ্ঠী এখনো ভীত এবং প্রতিবাদী আদর্শকে ভয় পায়।

উল্লেখ্য, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি বেরোবির শিক্ষার্থীদের কাছে একজন সাহসী ও আপসহীন আধিপত্যবাদবিরোধী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তার স্মরণে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা আলোচনা সভা, স্মরণ কর্মসূচি ও প্রতীকী কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শহীদদের প্রতি সম্মান রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।