
সিলেট নগরীতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে থাকা ব্যবসায়ী মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ আব্দুর রহিমকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী| বর্তমানে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জে বন্দি রয়েছেন বলে জানা গেছে|
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সিলেট নগরীতে ব্যবসা পরিচালনার আড়ালে বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে ১ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করেন আব্দুর রহিম| এভাবে তিনি প্রায় কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে|
এছাড়া সিলেট নগরীর কালীঘাট পাইকারি বাজার এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাকিতে পণ্য নিয়ে অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে| এতে একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন|
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সিলেটের বহুমুখী উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা কোম্পানী-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল আব্দুর রহিমের| আত্মসাতের ঠিক কয়েকদিন আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৪৮ লাখ টাকার পণ্য ক্রয় করেন এবং মূল্য পরিশোধের জন্য একটি চেক প্রদান করেন| কিন্তু নির্ধারিত তারিখে ব্যাংকে চেক জমা দিলে দেখা যায়, তার হিসাবে কোনো অর্থ নেই| পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা তার অফিসে গিয়ে দেখেন, প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ| অভিযোগ রয়েছে, তিনি এসব পণ্য বাজারমূল্যের প্রায় ২০ শতাংশ কম দামে পাশ্ববর্তী বিভিন্ন দোকানে নগদে বিক্রি করে আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান| এ ঘটনায় মেসার্স মা কোম্পানী বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে| ওই মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন এবং আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়|
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কালীঘাট এলাকার মেসার্স সাহেদ স্টোর-এর প্রোপাইটর সাহেদ আহমেদ| তিনি জানান, প্রতারণার কিছুদিন আগে আব্দুর রহিম একটি স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে মশলা বাজারজাত করার চুক্তির কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার গরম মশলা নেন এবং চেকের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দেন| কিন্তু ব্যাংকে চেক জমা দিলে সেটিও প্রত্যাখ্যাত হয়| পরে জানা যায়, তিনি ওই পণ্য কম দামে বিক্রি করে আত্মগোপনে চলে যান| এ ঘটনায় সাহেদ আহমেদ কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন| ওই মামলাতেও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে|
অভিযুক্ত আব্দুর রহিম পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানার সোহাগদল গ্রামের মৃত মোঃ আবু হানিফের ছেলে| তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে|
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সিলেট মহানগরের বিভিন্ন আদালত ও থানায় দায়ের করা অন্তত ছয়টি মামলায় তিনি অভিযুক্ত| এর মধ্যে রয়েছে—
(১) অর্থজারী মোকাদ্দমা নং-২২৫/২৩ (তারিখ: ০৮ অক্টোবর ২০২৪), ধারা ৩৪(১), অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩;
(২) এসএমপি কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-২৫/৫৪৯, জিআর নং-৫৪৯/২০২০ (তারিখ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২০), ধারা ৪০৬/৪২০/৪২১/৪৬৭/৪৭১/১০৯/৫০৬(২), দণ্ডবিধি ১৮৬০;
(৩) এসএমপি কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৩২/৫৫৬ (তারিখ: ১২ ডিসেম্বর ২০২০), ধারা ৪০৬/৪২০, দণ্ডবিধি ১৮৬০;
(৪) এসএমপি এয়ারপোর্ট থানার মামলা নং-৬/৭৮ (তারিখ: ২২ জুলাই ২০১৭), ধারা ৪/৫, আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ (সংশোধনী ২০০৯);
(৫) সিলেট কোম্পানীগঞ্জ থানার মামলা নং-১০ (তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭), ধারা ৩৭৯/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩৪, দণ্ডবিধি ১৮৬০;
(৬) এসএমপি কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-১৪/১৪৮ (তারিখ: ১৯ মে ২০১৬), ধারা ১৪৩/৩৮৫/৩২৩/৩৭৯/৫০৬, দণ্ডবিধি ১৮৬০|
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব মামলার কয়েকটিতে তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে| সম্প্রতি দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে|
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও ঋণদাতারা তার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন|
