
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৪৮৮ বর্গকিলোমিটারের এই বিশাল জনপদে শতবছরেও নির্মিত হয়নি কোনো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় প্রতি বছরই এই অঞ্চলের মানুষকে গুণতে হচ্ছে বিপুল অঙ্কের ক্ষয়ক্ষতি। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও ফায়ার সার্ভিস না থাকা এই উপজেলার মানুষের জন্য এখন বড় আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভৌগোলিক ও জনতাত্ত্বিক দিক থেকে গোয়াইনঘাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি তথ্যমতে, ৪৮৮.৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৮ জন মানুষের বসবাস। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৭৩২ জন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তায় একটি ফায়ার স্টেশন অপরিহার্য হলেও শতবছরেও এর কোনো বাস্তবায়ন ঘটেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় কোনো বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে সিলেট সদর কিংবা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে আসতে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বিশেষ করে দুর্গম সীমান্ত এলাকা হওয়ায় সঠিক সময়ে ফায়ার সার্ভিসের সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
গোয়াইনঘাট উপজেলাটি কেবল জনবহুলই নয়, এটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট এবং পান্তুমাই মায়াবতী ঝর্নার মতো বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলো এই উপজেলায় অবস্থিত। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক এই এলাকায় ভ্রমণ করেন। পর্যটন স্পটগুলোতে ছোট-বড় অনেক কটেজ, রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই পর্যটন কেন্দ্রগুলো এবং সেখানে আসা পর্যটকরাও চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।
উপজেলার উত্তর সীমান্তে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে জৈন্তাপুর, দক্ষিণে সিলেট সদর এবং পশ্চিমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা অবস্থিত। বিশাল এই সীমানা এবং বিপুল জনসংখ্যা বিবেচনায় দ্রুত একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মহল।
ভুক্তভোগী জনসাধারণের দাবি, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছালেও গোয়াইনঘাটের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফায়ার স্টেশন না থাকাটা দুঃখজনক। জনস্বার্থে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে অতি দ্রুত এখানে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
