
চট্টগ্রামজুড়ে চরম আকার ধারণ করেছে তীব্র গ্যাস সংকট। সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে গৃহস্থালির রান্নাঘর—সবখানেই পড়েছে এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব। টানা ৭–৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। ফলে একদিকে যেমন সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, অন্যদিকে বাসাবাড়িতে চুলা না জ্বলায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ সারি, বাড়তি ভাড়ার খড়্গ
নগরীর হালিশহর, আগ্রাবাদ, চান্দগাঁও, চকবাজার, বাকলিয়া ও জামালখানসহ অধিকাংশ এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের মাইলজোড়া লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে আটকে থাকায় অনেক চালক পুরো দিনে মাত্র কয়েক ট্রিপ গাড়ি চালাতে পারছেন।
পাম্পের দীর্ঘ সারি ও গ্যাসের এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে যাত্রীদের পকেটে। সিএনজি ও টেম্পো চালকরা বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। নগরীর চান্দগাঁও থেকে আন্দরকিল্লাগামী নিয়মিত যাত্রী মো. দবীর হুসেইন জানান, স্বাভাবিক সময়ে যে পথের ভাড়া ১৩ টাকা, তা আজ ২০ টাকা দিয়ে আসতে হয়েছে। চান্দগাঁও এলাকার সিএনজি চালক রহিম মিয়া আফসোস করে বলেন, “রাত ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোর ৪টায় গ্যাস পেয়েছি। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ আমরা, সারা দিন গাড়ি না চালালে সংসার চলবে কীভাবে? তাই বাধ্য হয়ে ভাড়া কিছুটা বেশি নিতে হচ্ছে।”
বাসাবাড়িতে হাহাকার, হোটেলনির্ভর খাবার
গৃহস্থালির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক। হালিশহরের বাসিন্দা ইসমত আরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত সপ্তাহে অন্তত সকাল ১০টা থেকে ৩টা পর্যন্ত গ্যাস থাকত না। কিন্তু এখন সকাল ৭টা বাজার আগেই গ্যাস চলে যায়, আসে মধ্যরাতে। তাও প্রেসার এত কম যে রান্না করা যায় না। বাচ্চাদের নাশতাসহ তিন বেলা হোটেল থেকে নানরুটি ও পাউরুটি কিনে খেতে হচ্ছে।”
সরবরাহে ঘাটতি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকটের শুরুতে সরবরাহ ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি নেমে এলেও আগস্টের শুরু থেকে তা আরও কমেছে।
সংকট প্রসঙ্গে কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। চাপও বেশ কম। বর্তমানে রেশনিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস বিতরণের চেষ্টা চলছে। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ আকস্মিকভাবে কমে যায়, যার ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।
